Tour's & Travel Information

All information is here

Tuesday, November 2, 2021

কক্সবাজার ভ্রমণের সংক্ষিপ্ত গাইড

সারি সারি ঝাউবন, বালুর নরম বিছানা, সামনে বিশাল সমুদ্র। কক্সবাজার গেলে সকালে-বিকেলে সমুদ্রতীরে বেড়াতে মন চাইবে। নীল জলরাশি আর শোঁ শোঁ গর্জনের মনোমুগ্ধকর সমুদ্র সৈকতের নাম কক্সবাজার। অপরূপ সুন্দর বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। যারা সপরিবারে বেড়াতে চান তাদের জন্যই এই প্রতিবেদন।


 মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, মাতার বাড়ি, শাহপরী, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজারকে করেছে আরো আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে মাতা মুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কুহেলিয়অ ও নাফ নদী। পর্যটন, বনজসম্পদ, মৎস্য, শুটকিমাছ, শামুক, ঝিনুক ও সিলিকাসমৃদ্ধ বালুর জন্য কক্সবাজারের অবস্থান তাই ভ্রমণবিলাসী পর্যটকদের কাছে সবার উপরে। সমুদ্রে নামার আগে সতর্কতা ও অন্যান্য তথ্য:সমুদ্রে নামার আগে অবশ্যই জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন। এ সম্পর্কিত ইয়াছির লাইফ গার্ডের বেশ কয়েকটি সাইনবোর্ড ও পতাকা রয়েছে বিচের বিভিন্ন স্থানে। জোয়ারের সময় সমুদ্রে গোসলে নামা নিরাপদ। এ সময় তাই জোয়ারের সময় নির্দেশিত থাকে, পাশাপাশি সবুজ পতাকা ওড়ানো হয়।

ভাটার সময়ে সমুদ্রে স্নান বিপজ্জনক ভাটার টানে মুহূর্তেই হারিয়ে যেতে পারে যে কেউ।তাই এ সময় বিচ এলাকায় ভাটার সময় লেখাসহ লাল পতাকা ওড়ানো থাকলে সমুদ্রে নামা থেকে বিরত থাকুন। কোনোভাবেই দূরে যাবেন না। প্রয়োজেন পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ইয়াছির লাইফ গার্ডের সহায়তা নিন। ওদের জানিয়ে বিচে নামুন। 

বিচ ফটোগ্রাফি: কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুমে শ দুয়েক বিচ ফটোগ্রাফার পর্যটকদের ছবি তুলে থাকে। প্রায় ঘন্টা খানেকের মধ্যেই এসব ছবি প্রিন্ট করে নেগেটিভসহ পর্যটকদের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা রয়েছে। লাল পোশাক পরা এসব বিচ ফটোগ্রাফারদের প্রত্যেকের রয়েছে একটি করে আইডি কার্ড।বেশ কয়েকটি স্টুডিও এ কাজের সঙ্গে জড়িত। সরকারি রেট অনুযায়ী ফোরআর সাইজের ছবি ৩০টাকা । এ সম্পর্কিত সাইনবোর্ড মেইন বিচে দেখতে পাওয়া যায়। এসব বিচ ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে ছবি তোলার আগে আইডি কার্ড দেখে নেওয়া ভালো। 

স্পিডবোট: বিচে বেশ কয়েকটি স্পিডবোট চলে। মেইন বিচ থেকে এগুলো চলাচল করে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত। ভাড়া এক রাউন্ড ১০০টাকা। এছাড়া খোলা স্পিডবোটের সাহায্যে চলে লাইফ বোট জনপ্রতি ভাড়া ২৫০ টাকা।বিচ বাইক: তিন চাকার বেশ কয়েকটি বিচে চলার উপযোগী বাইক কক্সবাজার সাগর সৈকতে চলাচল করে। প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে এসব বাইক রাউন্ড প্রতি পঞ্চাশ টাকা করে পর্যটকদের প্রদান করতে হয়। 

হিমছড়ি ও ইনানী বিচ ভ্রমনঃ কক্সবাজারের ১২ থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে রয়েছে দুটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান। একটি হলো হিমছড়ি এবং অন্যটি হলো ইনানী। কক্সবাজার সমুদ্র থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে অন্যতম আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকত ইনানী সমুদ্র সৈকত। আর এই সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার পথে মাত্র ১২ কিলোমিটার গেলেই পাওয়া যাবে আরেক দর্শনীয় পর্যটন স্থান হিমছড়ি। কলাতলী থেকে জিপে চড়ে যেতে পারেন এ জায়গা দুটিতে। খুব সকালে গেলে জায়গা দুটি ঘুরে আবার দুপুরের মধ্যেই ফিরতে পারবেন কক্সবাজার শহরে। কক্সবাজার থেকে জিপে যেতে পারবেন এখানে। রিজার্ভ নিলে খরচ পড়বে দেড় থেকে আড়াইহাজার টাকা। আর লোকাল জিপে গেলে এ জায়গা দুটি ঘুরে আসতে জনপ্রতি খরচ হবে দুই আড়াইশ টাকা। 

যাতায়াত ও ভাড়া : যারা ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যেতে চান তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার অথবা সরাসির বাসে কক্সবাজারে যেতে পারে। ঢাকার ফকিরাপুল, আরামবাগ, মতিঝিলসহ বেশ কয়েকটি স্থানে সরাসরি কক্সবাজারের উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়।এসি ও নন এসি, ডিলাক্স ও সাধারণ এসব সরাসরি বাস পরিবহনের ভাড়া পড়বে ৪০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত। সোহাগ, গ্রীন লাইন ছাড়াও ঈগল ও অন্যান্য পরিবহনের বাস চলাচল করে। এছাড়া ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে প্রথমে চট্টগ্রাম এবং পরে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কক্সবাজারে যাওয়া যায়। ঢাকার কমলাপুর থেকে প্রতিদিন ট্রেন বা বাস ছেড়ে যায়। তবে টিকেট বুকিং আগেভাগেই করে রাখা ভালো।

কক্সবাজারের আবাসিক ব্যবস্থা: বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও দর্শনীয় বিচ কক্সবাজারে রয়েছে আন্তর্জাতিকমানের বেশ কয়েকটি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। এছাড়া সরকারি ও ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠেছে ছোট বড় বিভিন্ন মানের অনেক রিসোর্ট, হোটেল ও বোর্ডিং হাউস। সর্বনিম্ন ২০০টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকায় কক্সবাজারে যাতযাপন করা যায়। হোটেল সিগালের ভাড়া ২,২০০-৭,০০০ টাকা। হোটেল শৈবালের ভাড়া ১,০০০-৩,০০০ টাকা। হোটেল লাবণীর ভাড়া ৬০০-৩,০০০ টাকা। উপলের ভাড়া ১০০০-১৫০০ টাকা। সি ক্রাউনের ভাড়া ২০০-৩,০০০ টাকা। জিয়া গেস্ট হল ৩০০-২,০০০ টাকা। ভাড়া অন্যান্য হোটেল রেস্টহাউসের ভাড়া প্রায়ই নির্ধারিত। তবে কক্সবাজার ভ্রমণের পূর্বে ফোনে যোগাযোগ করে বুকিংমানিং পাঠিয়ে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ভালো। সরাসরি গিয়েও কথা বলে রুম ভাড়া নেওয়া যায়। 

খাওয়াদাওয়া ও রেস্টুরেন্ট: প্রায় প্রতিটি আবাসিক হোটেল বা হোটেলের সন্নিকটে রেস্টুরেন্ট বা খাবার হোটেল রয়েছে। কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়ে পর্যটকদের বেশি আকর্ষণ থাকে সাগরের বিভিন্ন মাছের মেন্যুর প্রতি। বিশেষ করে চিংড়ি, রূপচাঁদা, লাইট্যা, ছুরি মাছসহ মজাদার শুটকি মাছের ভর্তার প্রতিই পর্যটকদের আকর্ষণ বেশি থাকে। খাবারের মেন্যু অনুযায়ী একে রেস্টুরেন্টে একেক ধরনের মূল্য তালিকা দেখা যায়। তবে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত কিছু কিছু তালিকা ভোজন রসিকদের আশ্বস্ত করেছে। মোটামুটি ১০-৫০০ টাকার মধ্যে সাধ ও সাধ্য অনুযায়ী মজাদার খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। তবে খাবার গ্রহণের পূর্বে খাবারের নাম, মূল্য এবং তৈরির সময় সম্পর্কে জেনে নিন। প্রয়োজনে খাদ্যের তালিকা ও মূল্য টুকে রাখুন। তালিকা সঙ্গে মিলিয়ে বিল প্রদান করুন।  

Share:

সেন্টমার্টিন ভ্রমনের প্রয়োজনীয় তথ্য

সেন্টমার্টিন ভ্রমনের প্রয়োজনীয় তথ্য: আকাশের নীল আর সমুদ্রের নীল সেখানে মিলেমিশে একাকার, তীরে বাঁধা নৌকা, নান্দনিক নারিকেল বৃক্ষের সারি আর ঢেউয়ের ছন্দে মৃদু পবনের কোমল স্পর্শ এটি বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন প্রবাল দ্বীপের সৌন্দর্য বর্ণনার ক্ষুদ্র প্রয়াস। বালি, পাথর, প্রবাল কিংবা জীব বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে জ্ঞান আর ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য অনুপম অবকাশ কেন্দ্র সেন্টমার্টিন। স্বচ্ছ পানিতে জেলি ফিশ, হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ, প্রবাল বিশ্ব রহস্যের জীবন্ত পাঠশালায় পরিণত করেছে সেন্টমার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকাকে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগর বক্ষের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। টেকনাফ থেকে ট্রলারে লঞ্চে কিংবা জাহাজে যেতে লাগে দুই থেকে সোয়া দুই ঘণ্টা। এর জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। নারিকেল, পেঁয়াজ, মরিচ, টমেটো ধান এই দ্বীপের প্রধান কৃষিজাত পণ্য। আর অধিবাসীদের প্রায় সবারই পেশা মৎস্য শিকার। তবে ইদানীং পর্যটন শিল্পের বিকাশের কারণে অনেকেই রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল কিংবা গ্রোসারি শপের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষ নিতান্ত সহজ-সরল, তাদের উষ্ণ আতিথেয়তা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। স্বল্প খরচে পর্যটকদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।
 
সেন্টমার্টিন যেভাবে যাবেন : বাংলাদেশের যে কোনও স্থান থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার থেকে প্রথমে জিপে চড়ে টেকনাফ, টেকনাফ থেকে সি-ট্রাক, জাহাজ কিংবা ট্রলারে চড়ে পৌঁছাবেন সেন্টমার্টিনে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় দূরপাল্লার বেশ কিছু গাড়ি। বাসে ভাড়া লাগবে এসি ৮০০ – ১২০০ এবং নন-এসি ৪০০-৭০০ টাকা। কক্সবাজার তো গেলেন তারপর বাসে ৩০-৫০ টাকা, ট্যাক্সিতে ৪০-৬০ টাকা অথবা রিজার্ভ মাইক্রোবাসে টেকনাফ যেতে ভাড়া লাগবে ৫০০-১০০০ টাকা (৮-১০ সিট)। প্রতিদিন সকাল থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে চলাচল করে এসব গাড়ি। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন সকাল থেকে আসা-যাওয়া করে সি-ট্রাক, কেয়ারি সিন্দাবাদ এবং নাফসি হাজাজ। চমৎকার এসব জাহাজের পাশাপাশি ট্রলার ও চলাচল করে এই সমুদ্র রুটে। পছন্দসই বাহনে যেতে পারেন। তবে নিরাপদ জলযান হিসেবে কেয়ারি সিন্দাবাদ ও নাফসি জাহাজই নির্ভরযোগ্য। এসব জাহাজে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। অন্যদিকে প্রতিদিনই বিকাল ৩টায় এসব সাহাজ সেন্টমার্টিন ছেড়ে আসে। শীত মৌসুমে সমুদ্র শান্ত থাকে এবং গ্রীষ্ম-বর্ষা মৌসুমে সমুদ্র উত্তাল থাকে, তখন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ।
 
 
কোথায় খাবেন : যারা স্বল্প সময়ের জন্য সেন্টমার্টিনে যেতে চান অর্থাৎ সন্ধ্যার আগে ফিরতে চান তাদের অবশ্যই ৩টার আগে ফিরতি জাহাজে আরোহণ করতে হবে। ছোট এই দ্বীপ এলাকা ঘুরে দেখতে ৩ ঘণ্টা সময়ই যথেষ্ট। তবে প্রধান দ্বীপ ও ছেড়া দ্বীপে যারা যেতে চান তাদের হাতে বেশ খানিকটা সময় থাকা উচিত। পর্যটকদের খাবারের জন্য রয়েছে এখানে বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তোরাঁ। তার কয়েকটি হল কেয়ারি মারজান রেস্তোরাঁ, বিচ পয়েন্ট, । হোটেল আল্লার দান, বাজার বিচ। এছাড়া আসাম হোটেল, সি বিচ, সেন্টমার্টিন, কুমিল্লা রেস্টুরেন্ট, রিয়েল রেস্তোরাঁ, হাজী সেলিম পার্ক, সেন্টমার্টিন টুরিস্ট পার্ক, হোটেল সাদেক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
 
থাকবেন কোথায় : সেন্টমার্টিনে থাকার জন্য বেশ উন্নতমানের কয়েকটি হোটেল ও কটেজ রয়েছে। ১৬টি হোটেলসহ বেশ ক’টি কটেজে প্রতিরাতে কমপক্ষে পাচশ জন পর্যটক থাকতে পারেন। অনেক বাড়িতেও আছে পর্যটকদের জন্য থাকার ব্যবস্থা। ভাড়া পড়বে ২০০-২৫০ টাকা, শীত মৌসুমে চাপ বেশি বিধায় ইচ্ছামতো ভাড়া নেয় মালিকরা। এবার জেনে নিন কয়েকটি হোটেল-মোটেলের নাম ও
 
হোটেলের ঠিকানা : সীমানা পেরিয়ে : ১০টি রুমের প্রতি রুমে ৪ জন থাকার ব্যবস্থা আছে। ভাড়া রুম প্রতি ৭০০-৮০০ টাকা, তাঁবুতে ৪ জন করে ৩০০ টাকা। খাবার খরচ জনপ্রতি ৫০-৭০ টাকা। যোগাযোগ জাহাঙ্গীর ।
 
প্রিন্স হেভেন : রুম সংখ্যা ১৮টি, ডাবল রুমের ভাড়া ৬০০-৮০০ টাকা। একসঙ্গে ৪ জনের থাকার ব্যবস্থা। সিঙ্গেল রুমে থাকার ব্যবস্থা দু’জনের ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা। যোগাযোগ : ০১৮৯৩০৮০৫৮। ব্ল–মেরিন রিসোর্ট-৩৪টি অতিথি রুমসহ ১৮টি ডাবল বেডরুম। ট্রিপল রেডরুম ১৩, ছয়জনের বেডরুম ৫টি এবং কটেজ ২টি। ভাড়া ডাবল ১০০০ টাকা, ট্রিপল ১২০০ টাকা, ৬ বেড ১৫০০ টাকা, ৫ বেডের কটেজ ২৫০০ টাকা।
 
সমুদ্র বিলাস (লেখক হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি) : ৪ রুমের এই বাড়িতে প্রতি রুমের ভাড়া ৫০০-১০০০ টাকা।

আরও আছে বিচ ক্যাম্প ; হোটেল সাগর পাড় এবং রিয়াদ গেস্ট হাউজ । আছে হোটেল স্বপ্ন প্রবাল, শ্রাবণ বিলাস, সরকারি ব্যবস্থাপনায় মেরিন পার্ক। পর্যটন মৌসুমে প্রায় প্রতি বাড়িতে আবাসিক সুবিধা পাওয়া যায়। সরাসরি এসব বাড়িতে গিয়ে আলাপ করে থাকা যায়
বি দ্রঃ ভাড়ার কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।
Share:

Friday, December 7, 2018

টাঙ্গুয়ার হাওরের নীল পানির রাজ্যে ......ভ্রমণ ব্লগ

বিস্তৃর্ণ জলরাশি শুধু আমাকেই নয় আমার ধারণা প্রতিটি মানুষকেই প্রচন্ডভাবে আকর্ষণ করে,হাওর এলাকা হচ্ছে তেমনই এক বিস্তৃর্ণ জলরাশির জায়গা  যা মানুষকে খুব বেশি করে আকর্ষন করে ।

আমাদের দেশ বাংলাদেশে হাওর বাওড়ে ভরপুর তার মাঝে সুনামগন্জের টাঙ্গুয়ার হাওর হলো সবচেয়ে সুন্দর এবং সবচেয়ে জনপ্রিয়ও বটে ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে ।


পানির রাজ্য টাঙ্গুয়ার হাওর ,দুরে ভারতের মেঘালয়

অপরুপ সৌন্দর্য্যের টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝরনা এসে মিশেছে এই হাওরে।  ছোট খাট ৫১টি হাওরের সমন্বয়ে ৯,৭২৭ হেক্টর এলাকা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর জেলার সবচেয়ে বড় জলাভূমি এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হাওর  । প্রায় ২০০ প্রজাতির মাছ ,জলজ উদ্ভিদে ভরপুর এই হাওর

পানিবহুল মূল হাওর ২৮ বর্গকিলোমিটার এবং বাকি অংশ গ্রামগঞ্জ ও কৃষিজমি , স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত

কোন এক ভরা জোছনার রাতে হাওর বিলাসের স্বপ্ন নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেলাম সুনামগন্জের উদ্দেশ্যে ভোর ছয়টায় বাস আমাদের নামিয়ে দিলো সুনামগন্জের আব্দুজ জহুর সেতুর উপরে :)

আব্দুজ জহুর সেতু 
পর্যটকদের কারণ এখন সেতুর উপরে সকাল থেকেই সিএনজি ট্যাক্সি আর মটরসাইকেলের সমাগম ঘটে ,এখান থেকে জনপ্রতি ৭০-৮০ টাকায় চলে যেতে পারবেন তাহেরপুর উপজেলায় :) আমরা ১০ জন একটা ট্যাক্সি ভাড়া করে চলে গেলাম তাহেরপুর উপজেলায় ,বাজারে নাস্তা সেরে নিলাম :)

নাস্তা সেরে নৌকাতে উঠার পালা ,আগে থেকেই যোগাযোগ করে আমরা একটা নৌকা ঠিক করে রেখেছিলাম চিন্তা নিবেন না বাজারে সবসময়ই নৌকার মাঝিরা পর্যটকদের জন্য বসে থাকে তাই আগে থেকে ঠিক না করে গেলেও কোন টেনশন নেই :) দেখে শুনে ..শুনে দেখে যেকোন নৌকা ঠিক করে নিতে পারবেন :)
আমাদের নৌকা ,উপরে বসে হাওর দেখবেন আর নীচে ঘুমানোর ব্যবস্হা

নাস্তা সেরে নৌকাতে উঠে গেলাম ....নৌকা যখন হাওরে প্রবেশ করলো দু পাশে যেন শুধুই পানির রাজত্ব...দুরে বহুদুরে পর্যন্ত দিগন্ত জোড়া জলরাশি ....সে এক অন্য রকম মুহুর্ত ..সবাই গান ধরলাম "" তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিবো রে ...তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিবোরে ....



তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিয়ে আমরা তীরে মানে মাঝির বাড়ীতে এসে পৌছালাম ,দুপুরে খাবার জন্য কিছু বাজার সদাই করে রেখেছিলাম যা মাঝির বাড়ীতে রান্না হবে :) বাজার সদাই মাঝির বাড়ীতে রেখে চলে গেলাম হাওরের ওয়াচ টাওয়ারের নীচে পানিতে লফ্ফ জফ্ফ করতে :) হাওরে আসবো আর জম্পেশ পানিতে লাফালাফি হবেনা তা কি হয় বলুন ?

হাওরে গোসল

যেখানে গোসল করেছিলাম গোসলের পরে ওয়াচ টাওয়ারের উপরে থেকে ফটোশুট
ওয়াচ টাওয়ারের সাথেই রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট সাদৃশ্য চমৎকার এ জায়গাটিতে আপনি ছোট ছোট নৌকা করে ঘুরতে পারবেন । ছবি তারেক মাহমুদ

গোসল করে উঠার পর পেট বাবাজি ক্ষুধার কথা বার বার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলো তাই আমরাও দ্রুত ছুটলাম মাঝির বাড়ির দিকে ,গিয়ে দেখি আমাদের দুপুরের খাবার ভাত ডাল আলুভর্তা আর মুরগীর মাংশ রেডি :)

জম্পেশ একটা খাওয়া দিয়ে এবার ছুটলাম টেকেরঘাটের উদ্দেশ্যে ,টেকের ঘাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো টেকেরঘাটের লেক আর একদম সীমান্ত বর্তী পাহাড়ী এলাকা :)

টেকেরঘাট লেক ,নীল পানি আর সবুজ প্রকৃতির মাঝে এই লেকটি আপনাকে মুগ্ধ করবেই
টেকেরঘাটে বাংলাদেশ ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা ,তবে সাবধান বিডিআরের অনুমতি ছাড়া যাবেন না 

সন্ধ্যার পর রাতের খাবার খেয়ে নিলাম টেকেরঘাট একটা হোটেলে ,তারপর আবার মাঝির বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা কারণ মাঝির বাড়ীর পাশের হাওর থেকেই ভরা জোছনা ভালোভাবে উপভোগ করা যাবে ।

নৌকাতে কাটানো সেই রাতটা স্মরণীয় একটা রাত ছিলো ,আকাশে চাঁদ ,হালকা মৃদু বাতাস সামনে বিস্তৃর্ণ  জলরাশি , সেই অনুভুতিটা কোনদিনও সঠিকভাবে বুঝানো যাবেনা এমনকি মুন্নি সাহা আসলেও :p

হেডফোনে গান আর সামনে দিগন্তজোড়া হাওরে জোছনার আলোতে স্বর্গীয় রাতটা নৌকার ছাদেই কাটিয়ে দিলাম :)

সকালে উঠেই মাঝির বাড়ীর রান্না খেয়ে হাওর দেখতে বের হয়ে গেলাম ....নৌকা নিয়ে পানির রাজ্যে হারিয়ে গেলাম আমাদের গন্তব্য ভারত সীমান্তবর্তী বারিক্কা টিলা আর যাদুকাটা নদী :)

টাঙ্গুয়ার হাওর :)
হাওর


আবহাওয়া ভালো থাকলে এমনই রুপ লাবণ্যে নিজেকে ফুটিয়ে তুলে টাঙ্গুয়ার হাওর
মাঝির বাড়ী থেকে প্রায় তিন ঘন্টা হাওরের মাঝ দিয়ে হাওর বিলাস করে আমরা পৌছালাম যাদুকাটা নদী আর বারিক্কা টিলা ।

এটা হচ্ছে বারিক্কাটিলা ,এর পিছনের নদীটাই হলো যাদুকাটা যদি আর পিছনের পুরো অংশ কিন্তু ভারত


যাদুকাটা নদী :)
 (ছবিটি সংগৃহীত নেট থেকে ,কোন ভাই যদি এ ছবি তুলে থাকেন তাহলে কমেন্টস করুন ক্রেডিট যোগ করে দিবো )



বারিক্কা টিলাতে ঘুরে যখন সবাই ক্লান্ত তখনই শুরু হলো যাদুকাটা নদীর শীতল পানিতে নিজেকে শীতল করার জন্য সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লো পানিতে ।

তারপর মাঝি আমাদের প্রায় আধাঘন্টার পথ মিয়ারচরে নামিয়ে দিলো সেখান থেকে সিএনজিতে করে চলে আসলাম সুনামগন্জ :)

আসার সময় সিলেটের বিখ্যাত রেষ্টুরেন্ট পানসীতে জম্পেশ খাওয়া দাওয়া করার পর হাওরের সব মধুর স্মৃতিগুলো মাথায় নিয়ে রাতের বাসে উঠলাম পড়লাম :) নিজ গৃহে যেতে হবে যে :)


এবার আসুন ট্যুরের ব্যাপারে কিছু তথ্য শেয়ার করি :

# ঢাকা থেকে রাতে শ্যামলী আর এনা সরাসরি সুনামগন্জ যায় ভাড়া ৫৫০ টাকা ভোর ৬ টায় নামিয়ে দিবে ,বলবেন আব্দুজ জহুর সেতুর উপর নামিয়ে দিতে ,এখান থেকে ট্যাক্সি /সিএনজি বা মটরসাইকেলে সরাসরি তাহির পুর চলে যেতে পারবেন ভাড়া পড়বে প্রতিজন ৭০-৮০ টাকা ।

# তাহিরপুর থেকে নৌকা ভাড়া নিজের সুবিধামত যেকোন সময়ের জন্য নিতে পারবেন ,আমরা দুইদিন এক রাতের জন্য নিয়েছিলাম প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা হিসেবে মোট ছয় থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যে ।।

# চাইলে নিজেরা বাজার করে মাঝিকে দিলে সে তার বাড়ীতে রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্হা করবে :) এছাড়া টেকেরঘাট এবং বারিক্কাটিলা দুই জায়গায় হোটেল পাবেন সেখানেও খাবারের ব্যবস্হা করতে পারবেন :)

# প্রতিটা নৌকাতে ১০-১২ জন রাতে থাকতে পারবেন এছাড়া থাকার জন্য মাঝির বাড়ীর পাশেই হোটেল আছে হাওর বিলাস নামে ওখানেও থাকতে পারেন যদি প্রয়োজন হয় ।। তবে রাতে বৃষ্টি না হলে অধিকাংশরাই দেখা যায় নৌকার ছাদে ঘুমাতে পছন্দ করে :)

# ফিরে্ আসার দিন বারেক্কা টিলা থেকে মিয়ারচর নেমে যেতে পারেন তারপর সিএনজিতে ৬০-৭০ টাকা নিবে সুনামগন্জ পর্যন্ত :)
Share:

Thursday, December 6, 2018

ঘুরোঘুরি কুমিল্লা-কেন আসবেন কিভাবে আসবেন কি দেখবেন কোথায় খাবেন ।।

প্রাচীন আর সমৃদ্ধশালী জেলাগুলোর নাম বললে কুমিল্লার নামটা একদম উপরের দিকেই আসে , আর এ কারণে কুমিল্লা জেলাকে নিয়ে দেশের মানুষের একটা আলাদা আগ্রহ আছে । কুমিল্লা জেলাতে ঘুরে দেখার কি আছে এ নিয়ে হরহামেশাই প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয় ,কিভাবে আসবো কুমিল্লা ? ঘুরে দেখার জায়গাগুলোতে কিভাবে যাবো ? খাবো কোথায় ?   এসব কিছুর উত্তর আপনি এ পোস্টে পেয়ে যাবেন ।

প্রথমেই আসি কুমিল্লাতে দেখার মতো কি আছে যার টানে আপনি কুমিল্লা আসবেন ? হুম আছে , কিছু জায়গা আছে যা দেখার জন্য আপনি রসমলাই এর জন্য বিখ্যাত কুমিল্লা জেলায় ঘুরে আসতে পারেন :) এক দিনের জন্য পারফেক্ট ঘুরোঘুরির প্ল্যান বলা যেতে পারে আর ঢাকা থেকে মাত্র দুই ঘন্টার রাস্তা :) তাহলে শুরু করা যাক ?



 শালবন বিহার 


বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম শালবন বিহার কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কি. মি. দুরে কোটবাড়িতে অবস্হিত । ধারণা করা হয় যে খ্রীষ্টিয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন। বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে । এ কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন এবং ধর্মচর্চা করতেন । 
শালবন বিহার
শালবন বিহারের একাংশ

শালবন বিহার
শালবন বিহার

এছাড়াও বিহারের পাশে জাদুঘর এবং দেশের সবচেয়ে বড় ৩০ ফুট উচু একটি বৌদ্ধ মূর্তি আছে ।।সম্প্রতি বিহারের কাছাকাছি ব্লু ওয়াটার পার্ক নামে একটি পার্ক করা হয়েছে এটাও দেখে আসতে পারেন ।। 

কুমিল্লা শহরের টমছম ব্রিজ থেকে সিএনজিতে করে সরাসরি যেতে পারেন অথবা যারা ঢাকা/চিটাগাং থেকে আসবেন তারা ঢাকা চিটাগাং বিশ্বরোডের কোটবাড়ি বিশ্বরোড দিয়ে প্রবেশ করতে পারেন ।। 

 ময়নামতি ওয়ার সেমেট্রি

কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে ময়নামতি ক্যান্টমেন্টে অবস্হিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত হওয়া মোট ৭৩৭ জন সৈনিকের সমাধিস্হল । কুমিল্লাতে স্হানীয়ভাবে এটাকে ইংরেজ কবরাস্হান বলা হয় ।এই সমাধিস্হলটি ব্রিটিশ সরকার কতৃর্ক পরিচালিত হয়। খুব সুন্দর করে সাজানো গোছানো থাকে সমাধিস্হলটি । রবিবার ব্যতীত প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত সকলের জন্য এটি উন্মুক্ত থাকে ।


War cemetery Comilla
ছবির মতো সাজানো গুছানো কুমিল্লা ওয়ার সেমিট্রি

কুমিল্লা ওয়ার সেমিট্রি

এবার আসা যাক যাবেন কিভাবে ? 
ঢাকা সায়েদাবাদ থেকে বাসে উঠবেন  কুমিল্লা শহরের আগেই কুমিল্লা ক্যান্টমেন্টে নেমে যাবেন সেখান থেকে দশ টাকা রিকশা ভাড়া ।


রুপবান মুড়া এবং ইটাখোলা মুড়া

এই দুইটাই ঐতিহাসিক স্হাপনা আমরা বলি রাজাদের ঘর বাড়ী । ঘুরে আসতে পারেন ভালোই লাগবে এগুলো সবই কোটবাড়িতে শালবন বিহার এলাকাতে অবস্হিত । যেকোন অটো বা সিএনজিকে বললেই নিয়ে যাবে ।
ইটাখোলা মুড়া

রুপবান মুড়া

 ধর্মসাগর 

কুমিল্লার বাইরের মানুষ সম্ভবত ধর্মসাগরপাড়ের কথা সবচেয়ে বেশি শুনেছেন কারণ কুমিল্লা শহরের মানুষের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র এটি । ধর্মসাগর পাড় সবার জন্য সবসময় উন্মুক্ত দিন রাত এখানে আড্ডা আর মানুষের আনাগোনা থাকে । এটি শহরেই অবস্হিত এবং যে কাউকে বললেই নিয়ে আসবে ।
ধর্মসাগর

ধর্মসাগর পাড়
 এখন নিশ্চয় ভাবছেন কুমিল্লাতে আসলে কোনটার পর কোনটা দেখতে গেলে সময় বাঁচবে এবং সাশ্রয়ী হবে ।। শালবন বিহার ,ওয়ার সেমিট্রি ,রুপসাগর পার্ক,ইটাখোলা মুড়া ,রুপবান মুড়া সবগুলো একদমই কাছাকাছি অবস্হিত ।।তবে ওয়ার সেমিট্রি আর রুপসাগর পার্ক এক সাইডে আর শালবন বিহার ইটাখোলা মুড়া রুপবান মুড়া কুমিল্লা বার্ড এগুলো একদিকে
যারা ঢাকা থেকে আসবেন তারা কুমিল্লা ক্যান্টমেন্ট নেমে যেতে পারেন তারপর ওয়ার সেমিট্রি দেখে  কুমিল্লা ক্যান্টমেন্ট থেকে সিএনজি বা মাইক্রোতে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত যাবেন সেখান থেকে কোটবাড়ি  শালবন বিহার এবং বাকীগুলো দেখার জন্য যেতে পারেন,   আপনি যদি পার্সোনাল গাড়ী নিয়ে আসেন তাহলে ক্যান্টমেন্ট পেরিয়ে কোটবাড়ি বিশ্বরোড দিয়ে শালবন বিহার এলাকায় যেতে হবে । কোটবাড়িতে সব দেখে আপনি কুমিল্লা শহরে চলে আসতে পারেন ,এখানে ধর্মসাগর পাড় দেখে কুমিল্লার বিখ্যাত রসমলাই নিয়ে বাড়ী ফিরতে পারেন । 

 সবই তো হলো এবার খাবেন কোথায় তার একটা সুরাহা হওয়া দরকার কি বলেন ? খাওয়ার সময়টাতে আপনি কোন এলাকাতে অবস্হান করেন এটার উপরে নির্ভর করে আপনি কোথায় খাবেন । যদি কুমিল্লা ক্যান্টমেন্ট থাকেন তাহলে কাকলী রেস্তোরা অথবা মিয়ামীতে খেতে পারেন মানস্মত খাবার পাবেন ।। যদি কোটবাড়ি অবস্হান করেন তাহলে বলা রাখা ভালো যে ওখানে খাবার তেমন ভালো কোন হোটেল নেই সেক্ষেত্রে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এসে যদি পার্সোনাল গাড়ী থাকে সাথে চিটাগাং রোডের দিকে গেলে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এ  আপনি নুরজাহান হোটেল (একটু এক্সপেনসিভ) অথবা ছন্দু হোটেলে খেতে পারেন অথবা আপনি শহরেও চলে আসতে পারেন ।। এক্ষেত্রে শিল্পী আসিফের হোটেল বাংলা রেস্তোরাতে খেতে পারেন আর যদি র‍্যান্ডমলী ভাত গরু মুরগী খেতে চান তাহলে কুমিল্লা রাজগন্জ হোটেল ডায়না ,কান্দিরপাড় কস্তুরি হোটেল ,সিটি রেষ্টুরেন্ট, ফৌজদারিতে সমতা হোটেল এ খেতে পারেন ।। 

 ঘুরোঘুরি হলো খাওয়া দাওয়া হলো এখন রসমলাই কিনার পালা, কুমিল্লাতে একশো একটা মাতৃভান্ডার রসমলাই এর দোকান আছে কিন্তু আপনাকে আসল মাতৃভান্ডারের রসমলাই চিনে নিতে হবে । আসল মাতৃভান্ডারের দোকানটি হলো শহরের মনোহরপুরে / কান্দিরপাড় কালিমন্দিরের বিপরীতে ।। এখানে একটি মাত্রই রসমলাই এর দোকান আছে আর যত দেখবেন সব নকল মাতৃভান্ডার । যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই দেখিয়ে দিবে ।

তো চলে আসুন কুমিল্লা একদিনের সফরে দেখে যান ঐতিহ্যবাহী জেলা কুমিল্লার রুপ ।
Share:

এ গল্পটা বান্দরবনের নাফাখুম জলপ্রপাতের (ভ্রমণ ব্লগ ও গাইডলাইন)

নাফাখুমকে বলা হয় বাংলার নায়াগ্রা ,কেন বলা হয় জানেন ? সৌন্দর্য্যটা আসলে মুগ্ধ করার মত ,শুধু মুগ্ধ বললে বিশেষণটা একটু কম হয়ে যায় ,অনেক অনেক মুগ্ধ করে তাকিয়ে থাকার মতো..একটু বেশিই মুগ্ধ করার মতো ।

নাফাখুম জলপ্রপাত
নাফাখুম জলপ্রপাত

যাই হোক গল্পটা তাহলে শুরু করি :) আমাদের ভ্রমণ গ্রুপ স্বপ্নযাত্রা ট্রাভেল গ্রুপ থেকে একদল ভ্রমণ পিপাসু নাফাখুমের স্বপ্ন নিয়ে বান্দরবনের উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেলাম রাত সাড়ে এগারোটার বাসে ,কপাল অতিরিক্ত ভালো হলে যা হয় আরকি যে বাস আমাদের নামানোর কথা বান্দরবনে ছয়টায় সেটা নামালো সাড়ে আটটায় ,আহা আমাদের কপাল এত্তগুলা ভালো তাইনা ? 

যাই হোক লেইট ইজ লেট ,লেট নিয়েতো আর বসে থাকলে হবেনা ,দ্রুত নাস্তা করে একটা চান্দের গাড়ী নিয়ে নিলাম থানচি পর্যন্ত ।

সারারাত সব ঝিমানোর উপরে ছিলো সকালেও কেমন যেন সবাই মনমরা আমি কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলাম ‍‍ বউ মরছে নাকি ? না কারোই বউ মরেনাই :p  কিন্তু যখনই চান্দের গাড়ী চালু হলো আর পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তায় চলা শুরু করলো সবাই মনে হলো সতেজতার ডোজ পেলো অধিকাংশরাই গাড়ীর ছাদে চলে গেলো আর গলা খোলে সে কি গান !!!!

এতক্ষণে মনে হলো সবাই ট্যুরে আসছি ........মৌজ মাস্তি অন .....।। ইয়ো ইয়ো হানি সিংও :p

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা অসাধারণ সব রাস্তা পেরিয়ে আমরা আড়াই ঘন্টার মধ্যেই পৌছে গেলাম থানচি উপজেলায় । 

থানচি থেকে যেতে হবে রেমাক্রি ,থানচি থেকে রেমাক্রি নৌকা দিয়ে তিন্দু আর বড় পাথুরিয়া হয়ে যেতে হয় । :) 


থানচি নেমেই স্হানীয় হোটেলে খাবার সেরে নিলাম ,তারপর গাইড সহ থানাতে এবং বিজিবি ক্যাম্পে আমাদের নাম ধাম পরিচয় জমা রেখে দুটো নৌকাতে উঠে পড়লাম :) 


নৌকা যাবে সাঙ্গু নদী হয়ে ,সাঙ্গু নদী অসম্ভব সুন্দর এক নদী ,নদীতে পানি কম আর এটাই এ নদীর সৌন্দর্য্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ।

সাঙ্গু নদী মানেই অ্যাডভেঞ্চার অ্যাডভেঞ্চার ভাব আর চারপাশের মুগ্ধ করার মতো প্রকৃতি ।
সাঙ্গু নদী দিয়ে রেমাক্রি যাবার সময় :) 

কোথাও কোথাও পানি অনেক কমে গেছে যে নৌকার মাঝিদের পানিতে নেমে নৌকা ঠেলে তারপর নিতে হয়েছে । 

তিন্দু অতিক্রম করে নৌকা ঠিক বড় পাথর এসে থামলো এখানে বিরতি ,বড় বড় পাথরে ভরপুর সাঙ্গু নদীর এ অংশটা । 

বড়পাথরের সৌন্দর্য্য না হয় ছবিতেই বর্ণণা দেই ....


এটাই হলো বড় পাথর এলাকা ,এর মধ্য দিয়েই নৌকা আপনাকে রেমাক্রি নিয়ে যাবে :)

বড় পাথর এলাকায় স্বপ্নযাত্রার সবাই বড় পাথরের উপরে উঠার মুহুর্ত

বড় বড় পাথরের মাঝ দিয়ে এভাবেই এগিয়ে চলে নৌকা :)

বড় পাথরের বিরতি শেষ করে আবারও নৌকাতে উঠে গেলাম কারণ সন্ধ্যার মধ্যে  আমাদের রেমাক্রি পৌছাতে হবে :) 

আবারও নৌকা চলতে লাগলো ,সন্ধ্যার মধ্যেই পৌছে গেলাম রেমাক্রি । 

রেমাক্রিতে আগেই আমাদের বুকিং করা ছিলো কটেজ ,সেখানে সবাই উঠে ফ্রেশ হয়ে গেলাম । আমাদের মধ্যে কিছু পাগলা আবার চলে গেলো রেমাক্রি ফলস এ গোসল করতে ।

রেমাক্রিতে ঠান্ডা কম কিন্তু আমার ধারণা ছিলো অনেক ঠান্ডা হবে এ বিষয়টা আমাকে অবাক করেছে ।
এটাই রেমাক্রি :) 

রাতে মুরগী ডাল আর আলু ভর্তা দিয়ে জম্পেশ খেয়ে নিলাম ,এবার ঘুমানোর পালা কাল স্বপ্নের নাফাখুম দেখবো :) 

রাত গভীর হচ্ছে সামনে সাঙ্গু নদী আর রেমাক্রি ফলস এর পানির কলতান । 

জীবন কিন্তু সুন্দর তাইনা ?

আমরা ঠিক করেছি সবার আগে নাফাখুম যাবো এজন্য ভোর পাঁচটায় উঠে যাবো ,যেহেতু সারাদিন জার্নির উপরে ছিলাম তাই শোয়ার সাথে সাথেই সবাই অতল ঘুমে তলিয়ে গেলো ।

যাই হোক ভোর হতেই সবাইকে ঢাকতেই দেখি সবাই রেডি ...

গন্তব্য : নাফাখুম জলপ্রপাত ...

হাটতে হবে : দুই ঘন্টা । 

আঁধো আলোতেই হাটা শুরু করে দিলাম ,মাঝখানে বিরতি নিলাম ,টুরিস্টরা এ সময় বের হয় বলে রাস্তাতেই আদিবাসীরা দোকান গুলো এ সময়ই খোলে ফেলে আমরা ডিম কলা আর চা খেয়ে নিলাম ।
স্বপ্নযাত্রার মেম্বাররা নাফাখুমের পথে 
নাফাখুম যাবার রাস্তায় এ সুন্দর ক্যাসক্যাডটি পাবেন :)

খেয়ে আবারও হাটা শুরু করলাম .....যাবার রাস্তাটা কিন্তু খুব সুন্দর :) 

দুর থেকেই কানে ভেসে আসলো পানির কলতান .....আহা সে মধুর শব্দ ....

এইযে এই যে ...নাফাখুম ...স্বপ্নের নাফাখুম ......

স্বপ্নের নাফাখুম

সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে আর স্হির থাকতে পারলাম না ,একদম ঝাঁপ দিয়েই দিলাম নাফাখুমের বুকে :)

ঝরনাতে আমাদের তিন মেম্বার জাফর,মাজেদ এবং আমি 

স্বপ্নযাত্রা ট্রাভেল গ্রুপের মেম্বাররা ঝরনার সামনে 

নাফাখুমের সবটুকু ভালোবাসা গায়ে মেখে আবারও ফিরে আসার পালা :) উল্টো পথে আবারও হাঁটা ধরলাম কারণ আমাদের আজই রাতের গাড়ীতে ঢাকা ফিরতে হবে । 

আবারও দু ঘন্টার হাটা পথ শেষ করে রেমাক্রিতে ,শেষ হইয়াও কিন্তু হইলোনা মানে রেমাক্রিতে কিন্তু চোখ ধাঁধানো একটা জলপ্রপাত আছে যা গোসল করার জন্য সবচেয়ে বেষ্ট ,এত বেস্ট একটা জলপ্রপাতে ওয়াটার থেরাপি নিবোনা তা কি হয় ?

জলথেরাপী অন ....
রেমাক্রি জলপ্রপাতে জলথেরাপি 

জলথেপারি নেওয়া শেষ করে দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে উঠে পড়লাম নৌকাতে ....আবারও সেই বড় পাথর তিন্দু পার হয়ে চলে আসলাম থানচিতে :)

থানচিতে এসে আমাদের প্লানটা ছিলো এখান থেকে নীলগিরি দেখে তারপর বান্দরবন ফিরবো । 

কিন্তু হায় বিধিবাম চান্দের গাড়ী সংকট অগতা উঠে পড়লাম বাসে ,বাস আমাদের নীলগিরি নামিয়ে দিবে তারপর সেখানে আমরা নীলগিরি দেখবো এর মাঝে বাস ড্রাইভার আমাদের জন্য একটা চান্দের গাড়ী নীলগিরি পাঠিয়ে দিবে :) 

বাস দেখে অধিকাংশরাই ছাদে উঠে পড়লো ,পাহাড়ী রাস্তায় বাসের ছাঁদে সেরাম এক ফিলিংস এর নাম :)


নীলগিরি নামিয়ে দিলো সবাই নীলগিরিতে হালকা সময় কাটালাম এর মাঝে আমাদের গাড়ীও হাজির সবাই গাড়ীতে উ্ঠে বান্দরবন চলে আসলাম :) 

ফ্রেশ হয়ে নাস্তা সেরে নিলাম :) রাত সাড়ে আটটায় বাস :) ভোর ৫টায় ঢাকাতে নামিয়ে দিলো 

অনেক গুলো স্মরণীয় স্মৃতি নিয়ে আমাদের নাফাখুমে স্বপ্নযাত্রা শেষ হলো ।।

এবার চলুন তাহলে ছোট ছোট টিপস গুলো শেয়ার করি 

# প্রথমে বান্দরবন সেখান থেকে যেতে হবে থানচি উপজেলা তারপর সেখান থেকে নৌকাতে তিন ঘন্টার রাস্তা রেমাক্রি :) রাতে রেমাক্রি থেকে তারপর দিন দুই ঘন্টা করে আসা যাওয়া চার ঘন্টার ট্রেকিং করলেই নাফাখুম জলপ্রপাত পাবেন :)

# থানচি যাবার ক্ষেত্রে  আপনি বাস বা চান্দের গাড়ীতে যেতে পারবেন কিন্তু বাসে যেতে প্রায় ছয় ঘন্টা লেগে যায় যা সময় নষ্ট এবং সাড়ে সাতটার আগে বাস ছাড়েনা সো সব মিলিয়ে বাসে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত হয়না যদিনা আপনি দুই তিনজন হন ।


# থানচিতে পৌছে খেয়ে নিবেন ,নরমাল কিছু হোটেল আছে । এখানে গাইড ঠিক করতে হবে অনেক গাইডই আছে নিজেরাই এসে কথা বলবে ,তারপর গাইড নিয়ে পুলিশ এবং বিজিবির কাছে নাম ধাম ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিয়ে এখানকার সব ফরমালিটিজ শেষ করতে হবে । 

# থানচি থেকে গাইড নিতে হয় গাইড প্রথম দিন ৮০০ এবং দ্বিতীয় দিন সাতশো টাকা মোট ১৫০০ এবং রেমাক্রি থেকে নাফাকুম আবার আলাদা একজন গাইড নিতে হয় যাকে ৫০০ টাকা দিতে হয় । 

# থানচি থেকে যে নৌকা নিবেন সে নৌকা আপনাকে নিয়ে যাবে এবং এরপর দিন নিয়ে আসবে :) একটি নৌকাতে ছয়জনের বেশি বসতে দেয়না বিজিবি । 

# রেমাক্রিতে রাতে থাকার জন্য অনেকগুলো কটেজ আছে সবগুলোতেই প্রতি রাত থাকা একজনের জন্য ১৫০ টাকা নিবে এবং খাবার ১শ থেকে ১৫০ টাকা নিবে :) 

#রেমাক্রি থেকে হেটে নাফাখুম আসতে যেতে মোট ৪ ঘন্টার মতো লাগবে এজন্য এ ধরনের ট্যুর ফ্যামিলির জন্য আদর্শ নয় :) 

# যারা সাতার জানেন না তাদের জন্য লাইফ জ্যাকেট নেওয়ার পরামর্শ রইলো । 

# থানচিতে রবি এবং টেলিটক নেটওয়ার্ক পাবেন কিন্তু থানচির পর রেমাক্রিতে কোন নেটওয়ার্ক পাবেন না সো বাসায় যাকে যা জানানোর সব আগেই জানিয়ে নিবেন কিন্তু কারণ মা বাবা সবসময়ই তার সন্তানের জন্য চিন্তা করে তাই আগে জানিয়ে দিবেন যে নেটওয়ার্ক থাকবেনা :) 

# বড় পাথর এলাকায় অবশ্যই নৌকা থামিয়ে কিছু সময় কাটাবেন ভাল্লাগবে :)

ভাই সব বুঝলাম কিন্তু টাকা টাকার ব্যাপারটা ? 


এ ধরনের ট্যুর আমার দৃষ্টিতে খরুচে ট্যুর ৮-১০ জনের টিম গেলে ৫ হাজার টাকার মতো খরচ যাবেই।
Share:

Total Pageviews

Search This Blog

Chemistry Solution Blog

Chemistry Solution