বিস্তৃর্ণ জলরাশি শুধু আমাকেই নয় আমার ধারণা প্রতিটি মানুষকেই প্রচন্ডভাবে আকর্ষণ করে,হাওর এলাকা হচ্ছে তেমনই এক বিস্তৃর্ণ জলরাশির জায়গা যা মানুষকে খুব বেশি করে আকর্ষন করে ।
আমাদের দেশ বাংলাদেশে হাওর বাওড়ে ভরপুর তার মাঝে সুনামগন্জের টাঙ্গুয়ার হাওর হলো সবচেয়ে সুন্দর এবং সবচেয়ে জনপ্রিয়ও বটে ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে ।
পানিবহুল মূল হাওর ২৮ বর্গকিলোমিটার এবং বাকি অংশ গ্রামগঞ্জ ও কৃষিজমি , স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত
কোন এক ভরা জোছনার রাতে হাওর বিলাসের স্বপ্ন নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেলাম সুনামগন্জের উদ্দেশ্যে ভোর ছয়টায় বাস আমাদের নামিয়ে দিলো সুনামগন্জের আব্দুজ জহুর সেতুর উপরে :)
| আব্দুজ জহুর সেতু |
নাস্তা সেরে নৌকাতে উঠার পালা ,আগে থেকেই যোগাযোগ করে আমরা একটা নৌকা ঠিক করে রেখেছিলাম চিন্তা নিবেন না বাজারে সবসময়ই নৌকার মাঝিরা পর্যটকদের জন্য বসে থাকে তাই আগে থেকে ঠিক না করে গেলেও কোন টেনশন নেই :) দেখে শুনে ..শুনে দেখে যেকোন নৌকা ঠিক করে নিতে পারবেন :)
![]() |
| আমাদের নৌকা ,উপরে বসে হাওর দেখবেন আর নীচে ঘুমানোর ব্যবস্হা |
নাস্তা সেরে নৌকাতে উঠে গেলাম ....নৌকা যখন হাওরে প্রবেশ করলো দু পাশে যেন শুধুই পানির রাজত্ব...দুরে বহুদুরে পর্যন্ত দিগন্ত জোড়া জলরাশি ....সে এক অন্য রকম মুহুর্ত ..সবাই গান ধরলাম "" তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিবো রে ...তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিবোরে ....
তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিয়ে আমরা তীরে মানে মাঝির বাড়ীতে এসে পৌছালাম ,দুপুরে খাবার জন্য কিছু বাজার সদাই করে রেখেছিলাম যা মাঝির বাড়ীতে রান্না হবে :) বাজার সদাই মাঝির বাড়ীতে রেখে চলে গেলাম হাওরের ওয়াচ টাওয়ারের নীচে পানিতে লফ্ফ জফ্ফ করতে :) হাওরে আসবো আর জম্পেশ পানিতে লাফালাফি হবেনা তা কি হয় বলুন ?
![]() |
| হাওরে গোসল |
![]() |
| যেখানে গোসল করেছিলাম গোসলের পরে ওয়াচ টাওয়ারের উপরে থেকে ফটোশুট |
![]() |
| ওয়াচ টাওয়ারের সাথেই রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট সাদৃশ্য চমৎকার এ জায়গাটিতে আপনি ছোট ছোট নৌকা করে ঘুরতে পারবেন । ছবি তারেক মাহমুদ |
গোসল করে উঠার পর পেট বাবাজি ক্ষুধার কথা বার বার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলো তাই আমরাও দ্রুত ছুটলাম মাঝির বাড়ির দিকে ,গিয়ে দেখি আমাদের দুপুরের খাবার ভাত ডাল আলুভর্তা আর মুরগীর মাংশ রেডি :)
জম্পেশ একটা খাওয়া দিয়ে এবার ছুটলাম টেকেরঘাটের উদ্দেশ্যে ,টেকের ঘাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো টেকেরঘাটের লেক আর একদম সীমান্ত বর্তী পাহাড়ী এলাকা :)
![]() |
| টেকেরঘাট লেক ,নীল পানি আর সবুজ প্রকৃতির মাঝে এই লেকটি আপনাকে মুগ্ধ করবেই |
| টেকেরঘাটে বাংলাদেশ ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা ,তবে সাবধান বিডিআরের অনুমতি ছাড়া যাবেন না |
সন্ধ্যার পর রাতের খাবার খেয়ে নিলাম টেকেরঘাট একটা হোটেলে ,তারপর আবার মাঝির বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা কারণ মাঝির বাড়ীর পাশের হাওর থেকেই ভরা জোছনা ভালোভাবে উপভোগ করা যাবে ।
নৌকাতে কাটানো সেই রাতটা স্মরণীয় একটা রাত ছিলো ,আকাশে চাঁদ ,হালকা মৃদু বাতাস সামনে বিস্তৃর্ণ জলরাশি , সেই অনুভুতিটা কোনদিনও সঠিকভাবে বুঝানো যাবেনা এমনকি মুন্নি সাহা আসলেও :p
হেডফোনে গান আর সামনে দিগন্তজোড়া হাওরে জোছনার আলোতে স্বর্গীয় রাতটা নৌকার ছাদেই কাটিয়ে দিলাম :)
সকালে উঠেই মাঝির বাড়ীর রান্না খেয়ে হাওর দেখতে বের হয়ে গেলাম ....নৌকা নিয়ে পানির রাজ্যে হারিয়ে গেলাম আমাদের গন্তব্য ভারত সীমান্তবর্তী বারিক্কা টিলা আর যাদুকাটা নদী :)
![]() |
| টাঙ্গুয়ার হাওর :) |
![]() |
| হাওর |
আবহাওয়া ভালো থাকলে এমনই রুপ লাবণ্যে নিজেকে ফুটিয়ে তুলে টাঙ্গুয়ার হাওর
|
![]() |
| এটা হচ্ছে বারিক্কাটিলা ,এর পিছনের নদীটাই হলো যাদুকাটা যদি আর পিছনের পুরো অংশ কিন্তু ভারত |
![]() |
| যাদুকাটা নদী :) (ছবিটি সংগৃহীত নেট থেকে ,কোন ভাই যদি এ ছবি তুলে থাকেন তাহলে কমেন্টস করুন ক্রেডিট যোগ করে দিবো ) |
বারিক্কা টিলাতে ঘুরে যখন সবাই ক্লান্ত তখনই শুরু হলো যাদুকাটা নদীর শীতল পানিতে নিজেকে শীতল করার জন্য সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লো পানিতে ।
তারপর মাঝি আমাদের প্রায় আধাঘন্টার পথ মিয়ারচরে নামিয়ে দিলো সেখান থেকে সিএনজিতে করে চলে আসলাম সুনামগন্জ :)
আসার সময় সিলেটের বিখ্যাত রেষ্টুরেন্ট পানসীতে জম্পেশ খাওয়া দাওয়া করার পর হাওরের সব মধুর স্মৃতিগুলো মাথায় নিয়ে রাতের বাসে উঠলাম পড়লাম :) নিজ গৃহে যেতে হবে যে :)
এবার আসুন ট্যুরের ব্যাপারে কিছু তথ্য শেয়ার করি :
# ঢাকা থেকে রাতে শ্যামলী আর এনা সরাসরি সুনামগন্জ যায় ভাড়া ৫৫০ টাকা ভোর ৬ টায় নামিয়ে দিবে ,বলবেন আব্দুজ জহুর সেতুর উপর নামিয়ে দিতে ,এখান থেকে ট্যাক্সি /সিএনজি বা মটরসাইকেলে সরাসরি তাহির পুর চলে যেতে পারবেন ভাড়া পড়বে প্রতিজন ৭০-৮০ টাকা ।
# তাহিরপুর থেকে নৌকা ভাড়া নিজের সুবিধামত যেকোন সময়ের জন্য নিতে পারবেন ,আমরা দুইদিন এক রাতের জন্য নিয়েছিলাম প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা হিসেবে মোট ছয় থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যে ।।
# চাইলে নিজেরা বাজার করে মাঝিকে দিলে সে তার বাড়ীতে রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্হা করবে :) এছাড়া টেকেরঘাট এবং বারিক্কাটিলা দুই জায়গায় হোটেল পাবেন সেখানেও খাবারের ব্যবস্হা করতে পারবেন :)
# প্রতিটা নৌকাতে ১০-১২ জন রাতে থাকতে পারবেন এছাড়া থাকার জন্য মাঝির বাড়ীর পাশেই হোটেল আছে হাওর বিলাস নামে ওখানেও থাকতে পারেন যদি প্রয়োজন হয় ।। তবে রাতে বৃষ্টি না হলে অধিকাংশরাই দেখা যায় নৌকার ছাদে ঘুমাতে পছন্দ করে :)
# ফিরে্ আসার দিন বারেক্কা টিলা থেকে মিয়ারচর নেমে যেতে পারেন তারপর সিএনজিতে ৬০-৭০ টাকা নিবে সুনামগন্জ পর্যন্ত :)
# চাইলে নিজেরা বাজার করে মাঝিকে দিলে সে তার বাড়ীতে রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্হা করবে :) এছাড়া টেকেরঘাট এবং বারিক্কাটিলা দুই জায়গায় হোটেল পাবেন সেখানেও খাবারের ব্যবস্হা করতে পারবেন :)
# প্রতিটা নৌকাতে ১০-১২ জন রাতে থাকতে পারবেন এছাড়া থাকার জন্য মাঝির বাড়ীর পাশেই হোটেল আছে হাওর বিলাস নামে ওখানেও থাকতে পারেন যদি প্রয়োজন হয় ।। তবে রাতে বৃষ্টি না হলে অধিকাংশরাই দেখা যায় নৌকার ছাদে ঘুমাতে পছন্দ করে :)
# ফিরে্ আসার দিন বারেক্কা টিলা থেকে মিয়ারচর নেমে যেতে পারেন তারপর সিএনজিতে ৬০-৭০ টাকা নিবে সুনামগন্জ পর্যন্ত :)









































