Tour's & Travel Information

All information is here

Friday, December 7, 2018

টাঙ্গুয়ার হাওরের নীল পানির রাজ্যে ......ভ্রমণ ব্লগ

বিস্তৃর্ণ জলরাশি শুধু আমাকেই নয় আমার ধারণা প্রতিটি মানুষকেই প্রচন্ডভাবে আকর্ষণ করে,হাওর এলাকা হচ্ছে তেমনই এক বিস্তৃর্ণ জলরাশির জায়গা  যা মানুষকে খুব বেশি করে আকর্ষন করে ।

আমাদের দেশ বাংলাদেশে হাওর বাওড়ে ভরপুর তার মাঝে সুনামগন্জের টাঙ্গুয়ার হাওর হলো সবচেয়ে সুন্দর এবং সবচেয়ে জনপ্রিয়ও বটে ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে ।


পানির রাজ্য টাঙ্গুয়ার হাওর ,দুরে ভারতের মেঘালয়

অপরুপ সৌন্দর্য্যের টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝরনা এসে মিশেছে এই হাওরে।  ছোট খাট ৫১টি হাওরের সমন্বয়ে ৯,৭২৭ হেক্টর এলাকা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর জেলার সবচেয়ে বড় জলাভূমি এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হাওর  । প্রায় ২০০ প্রজাতির মাছ ,জলজ উদ্ভিদে ভরপুর এই হাওর

পানিবহুল মূল হাওর ২৮ বর্গকিলোমিটার এবং বাকি অংশ গ্রামগঞ্জ ও কৃষিজমি , স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত

কোন এক ভরা জোছনার রাতে হাওর বিলাসের স্বপ্ন নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেলাম সুনামগন্জের উদ্দেশ্যে ভোর ছয়টায় বাস আমাদের নামিয়ে দিলো সুনামগন্জের আব্দুজ জহুর সেতুর উপরে :)

আব্দুজ জহুর সেতু 
পর্যটকদের কারণ এখন সেতুর উপরে সকাল থেকেই সিএনজি ট্যাক্সি আর মটরসাইকেলের সমাগম ঘটে ,এখান থেকে জনপ্রতি ৭০-৮০ টাকায় চলে যেতে পারবেন তাহেরপুর উপজেলায় :) আমরা ১০ জন একটা ট্যাক্সি ভাড়া করে চলে গেলাম তাহেরপুর উপজেলায় ,বাজারে নাস্তা সেরে নিলাম :)

নাস্তা সেরে নৌকাতে উঠার পালা ,আগে থেকেই যোগাযোগ করে আমরা একটা নৌকা ঠিক করে রেখেছিলাম চিন্তা নিবেন না বাজারে সবসময়ই নৌকার মাঝিরা পর্যটকদের জন্য বসে থাকে তাই আগে থেকে ঠিক না করে গেলেও কোন টেনশন নেই :) দেখে শুনে ..শুনে দেখে যেকোন নৌকা ঠিক করে নিতে পারবেন :)
আমাদের নৌকা ,উপরে বসে হাওর দেখবেন আর নীচে ঘুমানোর ব্যবস্হা

নাস্তা সেরে নৌকাতে উঠে গেলাম ....নৌকা যখন হাওরে প্রবেশ করলো দু পাশে যেন শুধুই পানির রাজত্ব...দুরে বহুদুরে পর্যন্ত দিগন্ত জোড়া জলরাশি ....সে এক অন্য রকম মুহুর্ত ..সবাই গান ধরলাম "" তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিবো রে ...তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিবোরে ....



তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিয়ে আমরা তীরে মানে মাঝির বাড়ীতে এসে পৌছালাম ,দুপুরে খাবার জন্য কিছু বাজার সদাই করে রেখেছিলাম যা মাঝির বাড়ীতে রান্না হবে :) বাজার সদাই মাঝির বাড়ীতে রেখে চলে গেলাম হাওরের ওয়াচ টাওয়ারের নীচে পানিতে লফ্ফ জফ্ফ করতে :) হাওরে আসবো আর জম্পেশ পানিতে লাফালাফি হবেনা তা কি হয় বলুন ?

হাওরে গোসল

যেখানে গোসল করেছিলাম গোসলের পরে ওয়াচ টাওয়ারের উপরে থেকে ফটোশুট
ওয়াচ টাওয়ারের সাথেই রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট সাদৃশ্য চমৎকার এ জায়গাটিতে আপনি ছোট ছোট নৌকা করে ঘুরতে পারবেন । ছবি তারেক মাহমুদ

গোসল করে উঠার পর পেট বাবাজি ক্ষুধার কথা বার বার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলো তাই আমরাও দ্রুত ছুটলাম মাঝির বাড়ির দিকে ,গিয়ে দেখি আমাদের দুপুরের খাবার ভাত ডাল আলুভর্তা আর মুরগীর মাংশ রেডি :)

জম্পেশ একটা খাওয়া দিয়ে এবার ছুটলাম টেকেরঘাটের উদ্দেশ্যে ,টেকের ঘাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো টেকেরঘাটের লেক আর একদম সীমান্ত বর্তী পাহাড়ী এলাকা :)

টেকেরঘাট লেক ,নীল পানি আর সবুজ প্রকৃতির মাঝে এই লেকটি আপনাকে মুগ্ধ করবেই
টেকেরঘাটে বাংলাদেশ ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা ,তবে সাবধান বিডিআরের অনুমতি ছাড়া যাবেন না 

সন্ধ্যার পর রাতের খাবার খেয়ে নিলাম টেকেরঘাট একটা হোটেলে ,তারপর আবার মাঝির বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা কারণ মাঝির বাড়ীর পাশের হাওর থেকেই ভরা জোছনা ভালোভাবে উপভোগ করা যাবে ।

নৌকাতে কাটানো সেই রাতটা স্মরণীয় একটা রাত ছিলো ,আকাশে চাঁদ ,হালকা মৃদু বাতাস সামনে বিস্তৃর্ণ  জলরাশি , সেই অনুভুতিটা কোনদিনও সঠিকভাবে বুঝানো যাবেনা এমনকি মুন্নি সাহা আসলেও :p

হেডফোনে গান আর সামনে দিগন্তজোড়া হাওরে জোছনার আলোতে স্বর্গীয় রাতটা নৌকার ছাদেই কাটিয়ে দিলাম :)

সকালে উঠেই মাঝির বাড়ীর রান্না খেয়ে হাওর দেখতে বের হয়ে গেলাম ....নৌকা নিয়ে পানির রাজ্যে হারিয়ে গেলাম আমাদের গন্তব্য ভারত সীমান্তবর্তী বারিক্কা টিলা আর যাদুকাটা নদী :)

টাঙ্গুয়ার হাওর :)
হাওর


আবহাওয়া ভালো থাকলে এমনই রুপ লাবণ্যে নিজেকে ফুটিয়ে তুলে টাঙ্গুয়ার হাওর
মাঝির বাড়ী থেকে প্রায় তিন ঘন্টা হাওরের মাঝ দিয়ে হাওর বিলাস করে আমরা পৌছালাম যাদুকাটা নদী আর বারিক্কা টিলা ।

এটা হচ্ছে বারিক্কাটিলা ,এর পিছনের নদীটাই হলো যাদুকাটা যদি আর পিছনের পুরো অংশ কিন্তু ভারত


যাদুকাটা নদী :)
 (ছবিটি সংগৃহীত নেট থেকে ,কোন ভাই যদি এ ছবি তুলে থাকেন তাহলে কমেন্টস করুন ক্রেডিট যোগ করে দিবো )



বারিক্কা টিলাতে ঘুরে যখন সবাই ক্লান্ত তখনই শুরু হলো যাদুকাটা নদীর শীতল পানিতে নিজেকে শীতল করার জন্য সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লো পানিতে ।

তারপর মাঝি আমাদের প্রায় আধাঘন্টার পথ মিয়ারচরে নামিয়ে দিলো সেখান থেকে সিএনজিতে করে চলে আসলাম সুনামগন্জ :)

আসার সময় সিলেটের বিখ্যাত রেষ্টুরেন্ট পানসীতে জম্পেশ খাওয়া দাওয়া করার পর হাওরের সব মধুর স্মৃতিগুলো মাথায় নিয়ে রাতের বাসে উঠলাম পড়লাম :) নিজ গৃহে যেতে হবে যে :)


এবার আসুন ট্যুরের ব্যাপারে কিছু তথ্য শেয়ার করি :

# ঢাকা থেকে রাতে শ্যামলী আর এনা সরাসরি সুনামগন্জ যায় ভাড়া ৫৫০ টাকা ভোর ৬ টায় নামিয়ে দিবে ,বলবেন আব্দুজ জহুর সেতুর উপর নামিয়ে দিতে ,এখান থেকে ট্যাক্সি /সিএনজি বা মটরসাইকেলে সরাসরি তাহির পুর চলে যেতে পারবেন ভাড়া পড়বে প্রতিজন ৭০-৮০ টাকা ।

# তাহিরপুর থেকে নৌকা ভাড়া নিজের সুবিধামত যেকোন সময়ের জন্য নিতে পারবেন ,আমরা দুইদিন এক রাতের জন্য নিয়েছিলাম প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা হিসেবে মোট ছয় থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যে ।।

# চাইলে নিজেরা বাজার করে মাঝিকে দিলে সে তার বাড়ীতে রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্হা করবে :) এছাড়া টেকেরঘাট এবং বারিক্কাটিলা দুই জায়গায় হোটেল পাবেন সেখানেও খাবারের ব্যবস্হা করতে পারবেন :)

# প্রতিটা নৌকাতে ১০-১২ জন রাতে থাকতে পারবেন এছাড়া থাকার জন্য মাঝির বাড়ীর পাশেই হোটেল আছে হাওর বিলাস নামে ওখানেও থাকতে পারেন যদি প্রয়োজন হয় ।। তবে রাতে বৃষ্টি না হলে অধিকাংশরাই দেখা যায় নৌকার ছাদে ঘুমাতে পছন্দ করে :)

# ফিরে্ আসার দিন বারেক্কা টিলা থেকে মিয়ারচর নেমে যেতে পারেন তারপর সিএনজিতে ৬০-৭০ টাকা নিবে সুনামগন্জ পর্যন্ত :)
Share:

Thursday, December 6, 2018

ঘুরোঘুরি কুমিল্লা-কেন আসবেন কিভাবে আসবেন কি দেখবেন কোথায় খাবেন ।।

প্রাচীন আর সমৃদ্ধশালী জেলাগুলোর নাম বললে কুমিল্লার নামটা একদম উপরের দিকেই আসে , আর এ কারণে কুমিল্লা জেলাকে নিয়ে দেশের মানুষের একটা আলাদা আগ্রহ আছে । কুমিল্লা জেলাতে ঘুরে দেখার কি আছে এ নিয়ে হরহামেশাই প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয় ,কিভাবে আসবো কুমিল্লা ? ঘুরে দেখার জায়গাগুলোতে কিভাবে যাবো ? খাবো কোথায় ?   এসব কিছুর উত্তর আপনি এ পোস্টে পেয়ে যাবেন ।

প্রথমেই আসি কুমিল্লাতে দেখার মতো কি আছে যার টানে আপনি কুমিল্লা আসবেন ? হুম আছে , কিছু জায়গা আছে যা দেখার জন্য আপনি রসমলাই এর জন্য বিখ্যাত কুমিল্লা জেলায় ঘুরে আসতে পারেন :) এক দিনের জন্য পারফেক্ট ঘুরোঘুরির প্ল্যান বলা যেতে পারে আর ঢাকা থেকে মাত্র দুই ঘন্টার রাস্তা :) তাহলে শুরু করা যাক ?



 শালবন বিহার 


বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম শালবন বিহার কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কি. মি. দুরে কোটবাড়িতে অবস্হিত । ধারণা করা হয় যে খ্রীষ্টিয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন। বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে । এ কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন এবং ধর্মচর্চা করতেন । 
শালবন বিহার
শালবন বিহারের একাংশ

শালবন বিহার
শালবন বিহার

এছাড়াও বিহারের পাশে জাদুঘর এবং দেশের সবচেয়ে বড় ৩০ ফুট উচু একটি বৌদ্ধ মূর্তি আছে ।।সম্প্রতি বিহারের কাছাকাছি ব্লু ওয়াটার পার্ক নামে একটি পার্ক করা হয়েছে এটাও দেখে আসতে পারেন ।। 

কুমিল্লা শহরের টমছম ব্রিজ থেকে সিএনজিতে করে সরাসরি যেতে পারেন অথবা যারা ঢাকা/চিটাগাং থেকে আসবেন তারা ঢাকা চিটাগাং বিশ্বরোডের কোটবাড়ি বিশ্বরোড দিয়ে প্রবেশ করতে পারেন ।। 

 ময়নামতি ওয়ার সেমেট্রি

কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে ময়নামতি ক্যান্টমেন্টে অবস্হিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত হওয়া মোট ৭৩৭ জন সৈনিকের সমাধিস্হল । কুমিল্লাতে স্হানীয়ভাবে এটাকে ইংরেজ কবরাস্হান বলা হয় ।এই সমাধিস্হলটি ব্রিটিশ সরকার কতৃর্ক পরিচালিত হয়। খুব সুন্দর করে সাজানো গোছানো থাকে সমাধিস্হলটি । রবিবার ব্যতীত প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত সকলের জন্য এটি উন্মুক্ত থাকে ।


War cemetery Comilla
ছবির মতো সাজানো গুছানো কুমিল্লা ওয়ার সেমিট্রি

কুমিল্লা ওয়ার সেমিট্রি

এবার আসা যাক যাবেন কিভাবে ? 
ঢাকা সায়েদাবাদ থেকে বাসে উঠবেন  কুমিল্লা শহরের আগেই কুমিল্লা ক্যান্টমেন্টে নেমে যাবেন সেখান থেকে দশ টাকা রিকশা ভাড়া ।


রুপবান মুড়া এবং ইটাখোলা মুড়া

এই দুইটাই ঐতিহাসিক স্হাপনা আমরা বলি রাজাদের ঘর বাড়ী । ঘুরে আসতে পারেন ভালোই লাগবে এগুলো সবই কোটবাড়িতে শালবন বিহার এলাকাতে অবস্হিত । যেকোন অটো বা সিএনজিকে বললেই নিয়ে যাবে ।
ইটাখোলা মুড়া

রুপবান মুড়া

 ধর্মসাগর 

কুমিল্লার বাইরের মানুষ সম্ভবত ধর্মসাগরপাড়ের কথা সবচেয়ে বেশি শুনেছেন কারণ কুমিল্লা শহরের মানুষের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র এটি । ধর্মসাগর পাড় সবার জন্য সবসময় উন্মুক্ত দিন রাত এখানে আড্ডা আর মানুষের আনাগোনা থাকে । এটি শহরেই অবস্হিত এবং যে কাউকে বললেই নিয়ে আসবে ।
ধর্মসাগর

ধর্মসাগর পাড়
 এখন নিশ্চয় ভাবছেন কুমিল্লাতে আসলে কোনটার পর কোনটা দেখতে গেলে সময় বাঁচবে এবং সাশ্রয়ী হবে ।। শালবন বিহার ,ওয়ার সেমিট্রি ,রুপসাগর পার্ক,ইটাখোলা মুড়া ,রুপবান মুড়া সবগুলো একদমই কাছাকাছি অবস্হিত ।।তবে ওয়ার সেমিট্রি আর রুপসাগর পার্ক এক সাইডে আর শালবন বিহার ইটাখোলা মুড়া রুপবান মুড়া কুমিল্লা বার্ড এগুলো একদিকে
যারা ঢাকা থেকে আসবেন তারা কুমিল্লা ক্যান্টমেন্ট নেমে যেতে পারেন তারপর ওয়ার সেমিট্রি দেখে  কুমিল্লা ক্যান্টমেন্ট থেকে সিএনজি বা মাইক্রোতে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত যাবেন সেখান থেকে কোটবাড়ি  শালবন বিহার এবং বাকীগুলো দেখার জন্য যেতে পারেন,   আপনি যদি পার্সোনাল গাড়ী নিয়ে আসেন তাহলে ক্যান্টমেন্ট পেরিয়ে কোটবাড়ি বিশ্বরোড দিয়ে শালবন বিহার এলাকায় যেতে হবে । কোটবাড়িতে সব দেখে আপনি কুমিল্লা শহরে চলে আসতে পারেন ,এখানে ধর্মসাগর পাড় দেখে কুমিল্লার বিখ্যাত রসমলাই নিয়ে বাড়ী ফিরতে পারেন । 

 সবই তো হলো এবার খাবেন কোথায় তার একটা সুরাহা হওয়া দরকার কি বলেন ? খাওয়ার সময়টাতে আপনি কোন এলাকাতে অবস্হান করেন এটার উপরে নির্ভর করে আপনি কোথায় খাবেন । যদি কুমিল্লা ক্যান্টমেন্ট থাকেন তাহলে কাকলী রেস্তোরা অথবা মিয়ামীতে খেতে পারেন মানস্মত খাবার পাবেন ।। যদি কোটবাড়ি অবস্হান করেন তাহলে বলা রাখা ভালো যে ওখানে খাবার তেমন ভালো কোন হোটেল নেই সেক্ষেত্রে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এসে যদি পার্সোনাল গাড়ী থাকে সাথে চিটাগাং রোডের দিকে গেলে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এ  আপনি নুরজাহান হোটেল (একটু এক্সপেনসিভ) অথবা ছন্দু হোটেলে খেতে পারেন অথবা আপনি শহরেও চলে আসতে পারেন ।। এক্ষেত্রে শিল্পী আসিফের হোটেল বাংলা রেস্তোরাতে খেতে পারেন আর যদি র‍্যান্ডমলী ভাত গরু মুরগী খেতে চান তাহলে কুমিল্লা রাজগন্জ হোটেল ডায়না ,কান্দিরপাড় কস্তুরি হোটেল ,সিটি রেষ্টুরেন্ট, ফৌজদারিতে সমতা হোটেল এ খেতে পারেন ।। 

 ঘুরোঘুরি হলো খাওয়া দাওয়া হলো এখন রসমলাই কিনার পালা, কুমিল্লাতে একশো একটা মাতৃভান্ডার রসমলাই এর দোকান আছে কিন্তু আপনাকে আসল মাতৃভান্ডারের রসমলাই চিনে নিতে হবে । আসল মাতৃভান্ডারের দোকানটি হলো শহরের মনোহরপুরে / কান্দিরপাড় কালিমন্দিরের বিপরীতে ।। এখানে একটি মাত্রই রসমলাই এর দোকান আছে আর যত দেখবেন সব নকল মাতৃভান্ডার । যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই দেখিয়ে দিবে ।

তো চলে আসুন কুমিল্লা একদিনের সফরে দেখে যান ঐতিহ্যবাহী জেলা কুমিল্লার রুপ ।
Share:

এ গল্পটা বান্দরবনের নাফাখুম জলপ্রপাতের (ভ্রমণ ব্লগ ও গাইডলাইন)

নাফাখুমকে বলা হয় বাংলার নায়াগ্রা ,কেন বলা হয় জানেন ? সৌন্দর্য্যটা আসলে মুগ্ধ করার মত ,শুধু মুগ্ধ বললে বিশেষণটা একটু কম হয়ে যায় ,অনেক অনেক মুগ্ধ করে তাকিয়ে থাকার মতো..একটু বেশিই মুগ্ধ করার মতো ।

নাফাখুম জলপ্রপাত
নাফাখুম জলপ্রপাত

যাই হোক গল্পটা তাহলে শুরু করি :) আমাদের ভ্রমণ গ্রুপ স্বপ্নযাত্রা ট্রাভেল গ্রুপ থেকে একদল ভ্রমণ পিপাসু নাফাখুমের স্বপ্ন নিয়ে বান্দরবনের উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেলাম রাত সাড়ে এগারোটার বাসে ,কপাল অতিরিক্ত ভালো হলে যা হয় আরকি যে বাস আমাদের নামানোর কথা বান্দরবনে ছয়টায় সেটা নামালো সাড়ে আটটায় ,আহা আমাদের কপাল এত্তগুলা ভালো তাইনা ? 

যাই হোক লেইট ইজ লেট ,লেট নিয়েতো আর বসে থাকলে হবেনা ,দ্রুত নাস্তা করে একটা চান্দের গাড়ী নিয়ে নিলাম থানচি পর্যন্ত ।

সারারাত সব ঝিমানোর উপরে ছিলো সকালেও কেমন যেন সবাই মনমরা আমি কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলাম ‍‍ বউ মরছে নাকি ? না কারোই বউ মরেনাই :p  কিন্তু যখনই চান্দের গাড়ী চালু হলো আর পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তায় চলা শুরু করলো সবাই মনে হলো সতেজতার ডোজ পেলো অধিকাংশরাই গাড়ীর ছাদে চলে গেলো আর গলা খোলে সে কি গান !!!!

এতক্ষণে মনে হলো সবাই ট্যুরে আসছি ........মৌজ মাস্তি অন .....।। ইয়ো ইয়ো হানি সিংও :p

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা অসাধারণ সব রাস্তা পেরিয়ে আমরা আড়াই ঘন্টার মধ্যেই পৌছে গেলাম থানচি উপজেলায় । 

থানচি থেকে যেতে হবে রেমাক্রি ,থানচি থেকে রেমাক্রি নৌকা দিয়ে তিন্দু আর বড় পাথুরিয়া হয়ে যেতে হয় । :) 


থানচি নেমেই স্হানীয় হোটেলে খাবার সেরে নিলাম ,তারপর গাইড সহ থানাতে এবং বিজিবি ক্যাম্পে আমাদের নাম ধাম পরিচয় জমা রেখে দুটো নৌকাতে উঠে পড়লাম :) 


নৌকা যাবে সাঙ্গু নদী হয়ে ,সাঙ্গু নদী অসম্ভব সুন্দর এক নদী ,নদীতে পানি কম আর এটাই এ নদীর সৌন্দর্য্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ।

সাঙ্গু নদী মানেই অ্যাডভেঞ্চার অ্যাডভেঞ্চার ভাব আর চারপাশের মুগ্ধ করার মতো প্রকৃতি ।
সাঙ্গু নদী দিয়ে রেমাক্রি যাবার সময় :) 

কোথাও কোথাও পানি অনেক কমে গেছে যে নৌকার মাঝিদের পানিতে নেমে নৌকা ঠেলে তারপর নিতে হয়েছে । 

তিন্দু অতিক্রম করে নৌকা ঠিক বড় পাথর এসে থামলো এখানে বিরতি ,বড় বড় পাথরে ভরপুর সাঙ্গু নদীর এ অংশটা । 

বড়পাথরের সৌন্দর্য্য না হয় ছবিতেই বর্ণণা দেই ....


এটাই হলো বড় পাথর এলাকা ,এর মধ্য দিয়েই নৌকা আপনাকে রেমাক্রি নিয়ে যাবে :)

বড় পাথর এলাকায় স্বপ্নযাত্রার সবাই বড় পাথরের উপরে উঠার মুহুর্ত

বড় বড় পাথরের মাঝ দিয়ে এভাবেই এগিয়ে চলে নৌকা :)

বড় পাথরের বিরতি শেষ করে আবারও নৌকাতে উঠে গেলাম কারণ সন্ধ্যার মধ্যে  আমাদের রেমাক্রি পৌছাতে হবে :) 

আবারও নৌকা চলতে লাগলো ,সন্ধ্যার মধ্যেই পৌছে গেলাম রেমাক্রি । 

রেমাক্রিতে আগেই আমাদের বুকিং করা ছিলো কটেজ ,সেখানে সবাই উঠে ফ্রেশ হয়ে গেলাম । আমাদের মধ্যে কিছু পাগলা আবার চলে গেলো রেমাক্রি ফলস এ গোসল করতে ।

রেমাক্রিতে ঠান্ডা কম কিন্তু আমার ধারণা ছিলো অনেক ঠান্ডা হবে এ বিষয়টা আমাকে অবাক করেছে ।
এটাই রেমাক্রি :) 

রাতে মুরগী ডাল আর আলু ভর্তা দিয়ে জম্পেশ খেয়ে নিলাম ,এবার ঘুমানোর পালা কাল স্বপ্নের নাফাখুম দেখবো :) 

রাত গভীর হচ্ছে সামনে সাঙ্গু নদী আর রেমাক্রি ফলস এর পানির কলতান । 

জীবন কিন্তু সুন্দর তাইনা ?

আমরা ঠিক করেছি সবার আগে নাফাখুম যাবো এজন্য ভোর পাঁচটায় উঠে যাবো ,যেহেতু সারাদিন জার্নির উপরে ছিলাম তাই শোয়ার সাথে সাথেই সবাই অতল ঘুমে তলিয়ে গেলো ।

যাই হোক ভোর হতেই সবাইকে ঢাকতেই দেখি সবাই রেডি ...

গন্তব্য : নাফাখুম জলপ্রপাত ...

হাটতে হবে : দুই ঘন্টা । 

আঁধো আলোতেই হাটা শুরু করে দিলাম ,মাঝখানে বিরতি নিলাম ,টুরিস্টরা এ সময় বের হয় বলে রাস্তাতেই আদিবাসীরা দোকান গুলো এ সময়ই খোলে ফেলে আমরা ডিম কলা আর চা খেয়ে নিলাম ।
স্বপ্নযাত্রার মেম্বাররা নাফাখুমের পথে 
নাফাখুম যাবার রাস্তায় এ সুন্দর ক্যাসক্যাডটি পাবেন :)

খেয়ে আবারও হাটা শুরু করলাম .....যাবার রাস্তাটা কিন্তু খুব সুন্দর :) 

দুর থেকেই কানে ভেসে আসলো পানির কলতান .....আহা সে মধুর শব্দ ....

এইযে এই যে ...নাফাখুম ...স্বপ্নের নাফাখুম ......

স্বপ্নের নাফাখুম

সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে আর স্হির থাকতে পারলাম না ,একদম ঝাঁপ দিয়েই দিলাম নাফাখুমের বুকে :)

ঝরনাতে আমাদের তিন মেম্বার জাফর,মাজেদ এবং আমি 

স্বপ্নযাত্রা ট্রাভেল গ্রুপের মেম্বাররা ঝরনার সামনে 

নাফাখুমের সবটুকু ভালোবাসা গায়ে মেখে আবারও ফিরে আসার পালা :) উল্টো পথে আবারও হাঁটা ধরলাম কারণ আমাদের আজই রাতের গাড়ীতে ঢাকা ফিরতে হবে । 

আবারও দু ঘন্টার হাটা পথ শেষ করে রেমাক্রিতে ,শেষ হইয়াও কিন্তু হইলোনা মানে রেমাক্রিতে কিন্তু চোখ ধাঁধানো একটা জলপ্রপাত আছে যা গোসল করার জন্য সবচেয়ে বেষ্ট ,এত বেস্ট একটা জলপ্রপাতে ওয়াটার থেরাপি নিবোনা তা কি হয় ?

জলথেরাপী অন ....
রেমাক্রি জলপ্রপাতে জলথেরাপি 

জলথেপারি নেওয়া শেষ করে দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে উঠে পড়লাম নৌকাতে ....আবারও সেই বড় পাথর তিন্দু পার হয়ে চলে আসলাম থানচিতে :)

থানচিতে এসে আমাদের প্লানটা ছিলো এখান থেকে নীলগিরি দেখে তারপর বান্দরবন ফিরবো । 

কিন্তু হায় বিধিবাম চান্দের গাড়ী সংকট অগতা উঠে পড়লাম বাসে ,বাস আমাদের নীলগিরি নামিয়ে দিবে তারপর সেখানে আমরা নীলগিরি দেখবো এর মাঝে বাস ড্রাইভার আমাদের জন্য একটা চান্দের গাড়ী নীলগিরি পাঠিয়ে দিবে :) 

বাস দেখে অধিকাংশরাই ছাদে উঠে পড়লো ,পাহাড়ী রাস্তায় বাসের ছাঁদে সেরাম এক ফিলিংস এর নাম :)


নীলগিরি নামিয়ে দিলো সবাই নীলগিরিতে হালকা সময় কাটালাম এর মাঝে আমাদের গাড়ীও হাজির সবাই গাড়ীতে উ্ঠে বান্দরবন চলে আসলাম :) 

ফ্রেশ হয়ে নাস্তা সেরে নিলাম :) রাত সাড়ে আটটায় বাস :) ভোর ৫টায় ঢাকাতে নামিয়ে দিলো 

অনেক গুলো স্মরণীয় স্মৃতি নিয়ে আমাদের নাফাখুমে স্বপ্নযাত্রা শেষ হলো ।।

এবার চলুন তাহলে ছোট ছোট টিপস গুলো শেয়ার করি 

# প্রথমে বান্দরবন সেখান থেকে যেতে হবে থানচি উপজেলা তারপর সেখান থেকে নৌকাতে তিন ঘন্টার রাস্তা রেমাক্রি :) রাতে রেমাক্রি থেকে তারপর দিন দুই ঘন্টা করে আসা যাওয়া চার ঘন্টার ট্রেকিং করলেই নাফাখুম জলপ্রপাত পাবেন :)

# থানচি যাবার ক্ষেত্রে  আপনি বাস বা চান্দের গাড়ীতে যেতে পারবেন কিন্তু বাসে যেতে প্রায় ছয় ঘন্টা লেগে যায় যা সময় নষ্ট এবং সাড়ে সাতটার আগে বাস ছাড়েনা সো সব মিলিয়ে বাসে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত হয়না যদিনা আপনি দুই তিনজন হন ।


# থানচিতে পৌছে খেয়ে নিবেন ,নরমাল কিছু হোটেল আছে । এখানে গাইড ঠিক করতে হবে অনেক গাইডই আছে নিজেরাই এসে কথা বলবে ,তারপর গাইড নিয়ে পুলিশ এবং বিজিবির কাছে নাম ধাম ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিয়ে এখানকার সব ফরমালিটিজ শেষ করতে হবে । 

# থানচি থেকে গাইড নিতে হয় গাইড প্রথম দিন ৮০০ এবং দ্বিতীয় দিন সাতশো টাকা মোট ১৫০০ এবং রেমাক্রি থেকে নাফাকুম আবার আলাদা একজন গাইড নিতে হয় যাকে ৫০০ টাকা দিতে হয় । 

# থানচি থেকে যে নৌকা নিবেন সে নৌকা আপনাকে নিয়ে যাবে এবং এরপর দিন নিয়ে আসবে :) একটি নৌকাতে ছয়জনের বেশি বসতে দেয়না বিজিবি । 

# রেমাক্রিতে রাতে থাকার জন্য অনেকগুলো কটেজ আছে সবগুলোতেই প্রতি রাত থাকা একজনের জন্য ১৫০ টাকা নিবে এবং খাবার ১শ থেকে ১৫০ টাকা নিবে :) 

#রেমাক্রি থেকে হেটে নাফাখুম আসতে যেতে মোট ৪ ঘন্টার মতো লাগবে এজন্য এ ধরনের ট্যুর ফ্যামিলির জন্য আদর্শ নয় :) 

# যারা সাতার জানেন না তাদের জন্য লাইফ জ্যাকেট নেওয়ার পরামর্শ রইলো । 

# থানচিতে রবি এবং টেলিটক নেটওয়ার্ক পাবেন কিন্তু থানচির পর রেমাক্রিতে কোন নেটওয়ার্ক পাবেন না সো বাসায় যাকে যা জানানোর সব আগেই জানিয়ে নিবেন কিন্তু কারণ মা বাবা সবসময়ই তার সন্তানের জন্য চিন্তা করে তাই আগে জানিয়ে দিবেন যে নেটওয়ার্ক থাকবেনা :) 

# বড় পাথর এলাকায় অবশ্যই নৌকা থামিয়ে কিছু সময় কাটাবেন ভাল্লাগবে :)

ভাই সব বুঝলাম কিন্তু টাকা টাকার ব্যাপারটা ? 


এ ধরনের ট্যুর আমার দৃষ্টিতে খরুচে ট্যুর ৮-১০ জনের টিম গেলে ৫ হাজার টাকার মতো খরচ যাবেই।
Share:

সাজেক ভ্যালীর গাইডলাইন : কিভাবে যাবেন কোথায় থাকবেন কি খাবেন ।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আঁধার আমাদের মাতৃভূমি রূপসী বাংলা । রূপের অপার সৌন্দর্যের সাঁজে সেজে আছে বাংলা মা । আমরা সৌন্দর্যের খোঁজে ছুটে বেড়াই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে । কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছি আমাদের দেশের সৌন্দর্য তাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয় । আমরা বিভিন্ন দেশের গ্রীন ভ্যালী দেখতে যাই কিন্তু ঢাকা থেকে মাত্র ৭/৮ ঘণ্টা গাড়ি পথে পার্বত্য অঞ্চলের রাঙামাটি জেলার সাজেক ভ্যালী টা আমরা কজনই বা দেখেছি । হাতে দুই দিন সময় নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন এ সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য, যা আপনার সুন্দর একটি স্মৃতি হয়ে কল্পনায় গেঁথে থাকবে ।
মেঘের ভেলাতে সাজেকের সৌন্দর্য্য ...ছবি : শাহিন কামাল


সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত । সাজেক হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন । যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল । সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও যাতায়াতে সুবিধার কারণে পর্যটকরা খাগড়াছড়ি জেলা দিয়েই সাজেকে আসা যাওয়া করে ।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে সাজেক  এর দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার । সাজেকে প্রবেশের আগেই পড়বে সাজেকের প্রথম গ্রাম রুইলুই পাড়া যার উচ্চতা ১৮০০ ফুট । এর প্রবীণ জনগোষ্ঠী লুসাই । এছাড়া পাংকুয়া ও ত্রিপুরারাও বাস করে । ১৮৮৫ সালে এই পাড়া প্রতিষ্ঠিত হয় । এর হেড ম্যান লাল থাংগা লুসাই । রুইলুই পাড়া থেকে অল্প সময়ে পৌঁছে যাবেন সাজেক ।

সাজেকের বিজিবি ক্যাম্প বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উঁচুতে অবস্হিত বিজিবি ক্যাম্প । এখানে হেলিপ্যাড আছে । সাজেকের শেষ গ্রাম কংলক পাড়া । এটিও লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত পাড়া । এর হেড ম্যান চৌমিংথাই লুসাই । কংলক পাড়া থেকে ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায় । কংলাক পাড়া সাজেকের সবচেয়ে উচু পাড়া ।

কিভাবে যাবো সাজেক ?

খাগড়াছড়ি থেকে আপনি তিন মাধ্যমে সাজেক পৌছাতে পারবেন । চান্দের গাড়ী,সিএনজি এবং মটরসাইকেলে ।

সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো খাগড়াছড়ি শহর বা দীঘিনালা উপজেলা শহর থেকে জীপগাড়ি (লোকাল নাম চাঁন্দের গাড়ি) রিজার্ভ নিয়ে ঘুরে আসা । ভাড়া নিবে পুরাতন চান্দের গাড়ী ৫০০০-৬০০০ টাকা আর নতুন মাহিন্দ্রাগুলো ৭০০০-৮০০০ টাকা , এই টাকার মধ্যে আপনি যাবেন তারপর রাত কাটাবেন গাড়ী আবার আপনাকে নিয়ে আসবে বুঝা গেছে ব্যাপারটা ? । এক গাড়িতে গাড়ীর সাইজ অনুযায়ী দশ থেকে ১৫ জন বসতে পারবেন  । যদি খাগড়াছড়ির আলুটিলা ,রিসং ঝর্না ,ঝুলন্ত ব্রিজ সহ এগুলোও ঘুরতে চান তাহলে সেক্ষেত্রে চান্দের গাড়ী ১০০০-১২০০ টাকা ভাড়া বাড়বে :)

সাজেক যাবার পথে ...এ পথ যেন না শেষ হয় ....

লোক কম হলে খাগড়াছড়ি শহর থেকে সিএনজি নিয়েও যেতে পারবেন । ভাড়া ৩০০০ টাকার মতো নিবে ।

এছাড়াও মটরসাইকেলে করে সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন এক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে খাগড়াছড়ি শহর থেকে দীঘিনালা যেতে হবে তারপর সেখান থেকে মটরসাইকেলে সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন এক মটরসাইকেলে ড্রাইভার সহ তিনজন বসতে পারবেন ভাড়া আসা যাওয়া রিজার্ভ ১০০০-১২০০ টাকা (দামদর করে নিবেন কম বেশি হতে পারে) । । বাসে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা জন প্রতি ৪৫ টাকা নিবে । দীঘিনালা থেকে ১০০০-১২০০ টাকায় মোটর সাইকেল রিজার্ভ নিয়েও সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন ।

ভাই থাকার ব্যাপারটা ?


অস্হির হবেন না বলে দিচ্ছি :) সাজেকে আপনি রাতে থাকতে পারবেন এবং আমি আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছি থাকুন একটা রাত অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা হবে আপনার । 

সাজেকে থাকার জন্য বেশ কিছু ভালো মানের রিসোর্ট আছে যাতে আপনি নিশ্চিন্তে নিরাপদে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে থাকতে পারবেন ।

ভালো কিছু কটেজের নাম ও নাম্বার দিয়ে দিলাম :)

মেঘ মাচাং : সাজেকের বেস্ট রিসোর্টের স্বীকৃতি প্রাপ্ত :) চমৎকার ভিউ পাবেন এখানে  ০১৮২২ ১৬৮৮৭৭ রুম প্রতি ২৫০০ টাকা ভাড়া । এক রুমে চারজন থাকতে  পারবেন ।

মেঘ পুন্জি : সাজেকের আরও একটি বেস্ট রিসোর্ট যোগাযোগ নাম্বার  01815-761065 (Sajek), 01911-722007 (Dhaka)

জুমঘর : আরও একটি ভালো রিসোর্ট 01884208060 এই নাম্বারে ফোন দিয়ে বুকিং দিতে পারেন :) 


 রক প্যারাডাইস: সাজেকের কংলাক পাড়াতে অবস্হিত এ কটেজটি আপনাকে বেস্ট ভিউ দিবে  বুকিং করতে ফোন করতে পারেন ০১৮৪২৩৮০২৩৪ নাম্বারে ।



এছাড়াও আছে নিরিবিলি কটেজ ,লুসাই কটেজ ,নিসর্গ কটেজ যা থেকে মেঘ এর ভিউ ভালো পাওয়া যায় । এগুলো ছাড়াও আলো রিসোর্ট ,জলরিসোর্ট সহ ছোট খাট আরও অনেক কটেজ ওখানে রয়েছে :) রয়েছে উপজাতিদের ঘর বাড়ী যেখানে থাকাও খাওয়ার ব্যবস্হা রয়েছে ।

এসব কটেজ ছাড়াও ভিআইপি কিছু রিসোর্ট রয়েছে যেমন সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে আছে সাজেক রিসোর্ট যার ভাড়া ১০-১৫ হাজারের মধ্যে । বুকিং নাম্বার  : ০১৮৫৯০২৫৬৯৪  ,আছে রুন্ময় রিসোর্ট যার ভাড়া রুম প্রতি ৪৫০০-৫০০০ টাকা ,যোগাযোগ : ০১৮৬২০১১৮৫২
রুন্ময় রিসোর্ট 

যাবার আগে ফোন দিয়ে বুকিং করে যেতে পারেন কারণ ছুটির দিনগুলোতে ভালো ভালো সবগুলো কটেজ ও রিসোর্ট বুকড করা থাকে :) তবে এগুলো ছাড়াও অনেক কটেজ খালী পাবেন সমস্যা নেই :)
একদম উপর থেকে সাজেক ভ্যালী ছবি কৃতজ্ঞতা আফজাল নাজিম

যাওয়া হলো থাকার ব্যবস্হাও হলো খাওয়ার ব্যবস্হাওতো দরকার তাইনা ? ওখানে রিসোর্টগুলোতে বললে আপনাকে পছন্দমত রান্না করে দিবে সেক্ষেত্রে প্রতিবেলা প্রতিজন ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে মেনু হিসেবে পাবেন ভাত আলুভর্তা ,মুরগীর মাংশ ইত্যাদি তবে চাইলে রাতে ওরা বারবি কিউ করে দিবে :) যাবার দিন আগে আগে ফোন করে খাবারে কথা বলে রাখবেন তাহলে উনারা খাবারের ব্যবস্হা করে রাখবে :)

আর হ্যাঁ ফল পাবেন খুব সস্তায় সেখানে পেঁপে,আনারস,কমলা,কলা এগুলো অনেক সস্তায় পাবেন । পেট আর মন পুরে খেতে ভুলবেন না যেন :)

যারা এডভেঞ্চার পছন্দ করেন তারা সাজেক এর অপরুপ সৌন্দর্য্য দেখা ছাড়াও দেখে আসতে পারেন কমলক ঝর্না, সাজেকে এর রুইলুই পাড়া থেকে দুই থেকে আড়াই ঘন্টার ট্রেকিং করে দেখে আসতে পারেন সুন্দর এই ঝর্নাটি, বুনো রাস্তা আর ৮০-৮৫ ডিগ্রি খাড়া পাহাড় বেয়ে নামতে আর উঠতে হবে অনেক খানি তারপর ঝিরিপথ পাবেন, ঝিরিপথ ধরে এগিয়ে আবার উঠতে হবে কিছুটা, এইভাবে আরো কিছুক্ষন ট্রেক করার পর পৌছে যাবেন ঝর্নার কাছে। ঝিরিপথ টিও অসম্ভব সুন্দর, এডভেঞ্চারটি ভালো লাগবে আশা করি। রাস্তাটি বর্ষার সময় খুব পিচ্ছিল থাকে তাই খেয়াল রাখবেন চলার সময়। গাইড রুইলুই পাড়া থেকে ঠিক করে নিবেন, ঝর্নার কথা বললেই হবে, ৩০০-৩৫০ টাকা নিবে।

সাজেক থেকে ফেরার সময় হাজাছড়া ঝর্ণা , দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহার দেখে আসতে পারেন । একদিনে এই সব গুলো দেখতে হলে যত তারাতারি সম্ভব বেড়িয়ে পড়বেন ।

খাগড়াছড়ি শহর থেকে আপনি ঘুরতে পারবেন রিসং ঝরনা এবং আলুটিলা গুহা । সিএনজি বা বাসেই চলে যেতে পারেন এই দুই স্পটে । চাইলে চান্দের গাড়ীর সাথে এভাবে রিজার্ভ করতে পারেন যে সাজেক থেকে ফেরার দিন খাগড়াছড়ি আলুটিলা রিসং ঝরনা ঝুলন্ত ব্রীজ এগুলো ঘুরিয়ে দেখাতে হবে সেক্ষেত্রে গাড়ীর রিজার্ভ খরচ এক থেকে দেড় হাজার টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে :)

খাগড়াছড়ি কিভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে শ্যামলী , হানিফ ,ইকোনো ,এস আলম ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন । ভাড়া নিবে ৫২০ টাকা । শান্তি পরিবহনের বাস দীঘিনালা পর্যন্ত যায় । ভাড়া ৫৮০ টাকা । এছাড়া BRTC ও সেন্টমার্টিন্স পরিবহনের এসি বাস খাগড়াছড়ি যায় ।

 কোথায় থাকবেনঃ   খাগড়াছড়িতে থাকার খুব একটা প্রয়োজন হয়না তারপরও খাগড়াছড়ি রাতে থাকতে শহরেই অনেক হোটেল পাবেন :)

এখন আসুন খাগড়াছড়ির ভিন্ন একরুপে যাই :)খাগড়াছড়িতে রিসং ঝরনা ,আলুটিলা ,হাজাছড়া ঝরনা আর সাজেক এগুলো ছাড়াও আপনি অসাধারণ কিছু ঝরণা দেখতে পারবেন সেগুলো হলো সিজুক ১,সিজুক ২,তৈদুছড়া ১,তৈদুছড়া ২ ।

চারটার মাঝে সিজুক ১,২ এই দুইটা ঝরনা একদিকে আর তৈদুছড়ার দুইটা আরেকদিকে । তবে অবশ্যই অবশ্যই সিজুকের ঝরনাগুলোই সবচয়ে সুন্দর ঝরনা ।

সিজুক ১ ঝরনা

সিজুক ২ ঝরনা 
সিজুক ১ এবং দুই ঝরনাতে বর্তমানে নিরাপত্তার কারণে যাওয়া যায়না ,সেনাবাহিনীর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে 

সিজুক বা তৈদুছড়ার ঝরনাগুলো দেখতে আপনাকে প্রথমেই দিঘীনালা যেতে হবে সেখান থেকে গাইড নিয়ে তারপর ঝরনাগুলোতে যেতে হবে । চাঁন্দের গাড়ীর প্রয়োজন হতে পারে সেই গাড়ী আপনাকে সাজেক যাবার দিকের রাস্তার দিকে নিয়ে যাবে তারপর এক জায়গায় নামিয়ে দিবে সেখান থেকে আপানকে ট্রেকিং করে ঝরনাতে যেতে হবে ,প্রায় এক দেড় ঘন্টা লাগতে পারে সিজুক ১ ঝরনাতে পৌছাতে সেখান থেকে আধাঘন্টার মতো ট্রেক করলেই পেয়ে যাবেন সিজুক ২ ঝরনাটি । তারপর আবার গাড়ীর কাছে ফিরে এসে আপনাদের প্লানমতো হয়তো সাজেকে চলে যেতে পারেন অথবা দিঘীনালা বা খাগড়াছড়ি ফিরে যেতে পারেন ।।

তৈদুছড়াতে যেতে চাঁন্দের গাড়ীর প্রয়োজন নেই এটাতে কাছেই সর্বোচ্চ এক ঘন্টা হাটতে হবে দীঘিনালা থেকে ।

দীঘিনালাতে থাকার প্রয়োজন হতে পারে সেক্ষেত্রে আপনি দীঘিনালা গেস্ট হাউজে থাকতে পারেন, এটি দীঘিনালা শহরের বাস স্ট্যান্ডের উল্টো পাশে অবস্থিত । এটি দীঘিনালার আবাসিক হোটেল গুলোর মধ্যে একটু মানসম্মত । এখানে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে রুম নিয়ে থাকা যাবে ।


দীঘিনালার চাঁদের গাড়ির ড্রাইভার রাজ - ০১৮২০৭৪১৬৬২, ০১৮৪৯৮৭৮৬৪৯ । শিবু- ০১৮২০৭৪৬৭৪৪ ।

আশা করি খাগড়াছড়ি আর সাজেকে ঘুরোঘুরি নিয়ে আর কোন কনফিউশন বা ভয় নেই :) তারপরও যদি কোন তথ্যেের প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে নক করতে পারেন ফেইসবুকে বা নীচে কমেন্টস করতে পারেন :) আমি আমার সাধ্যমতো সাহায্য করবো ।
Share:

Total Pageviews

Search This Blog

Chemistry Solution Blog

Chemistry Solution